সেই নীতির বশবর্ত্তী হইয়া বৈষ্ণব আচার্য্যগণ অবাধে অনার্য্য-সমাজে প্রবেশ করিয়া আর্য্যানার্য্যের চিরবিদ্রোহে সন্ধির শান্তিবারি বর্ষণ করিয়াছিলেন। এক্ষণে আর্য্য ও অনার্য্যের মধ্যে আর পূর্ব্বের ন্যায় বিরোধ বিদ্রোহ নাই। পাশ্চাত্য সাম্যনীতিমূলক শিক্ষা ও খ্রীষ্টীয় প্রচারকগণের অবিরাম চেষ্টা ক্রমশঃ উভয় জাতির হৃদয় সঞ্চিত যুগ-যুগান্ত-ব্যাপী বিদ্বেষ বহ্নির ভগ্নাবশেষ নির্ব্বাপিত করিতেছে।
পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে এতদ্দেশে ইসিহাস ও জীবনচরিত রচনার স্রোত প্রবাহিত হইয়াছে। এই বঙ্গদেশে বহুসংখ্যক প্রতিভাশালী লেখক দেশের প্রাচীন ইতিহাস সংগ্রহের জন্য অবিরাম পরিশ্রম করিয়াছেন ও করিতেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় চিরনিগৃহীত অনার্য্যগণের সামাজিক ইতিহাস বিশ্লেষণের কোন উল্লেখযোগ্য প্রয়াস অদ্যাবধি হয় নাই বলিলেও চলে। পশ্চিমবঙ্গের অনার্য্যসমাজের ইতিহাস সংগ্রহকল্পে এতদ্দেশীয় যে সকল শ্রদ্ধেয় লেখক লেখনী ধারণ করিয়াছেন, তন্মধ্যে শ্রীযুক্ত বাবু শরৎচন্দ্র রায় সকলের অগ্রনী তদ্বিষয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নাই। বাবু শরৎচন্দ্র তাঁহার গভীর জ্ঞান, অকাতর পরিশ্রম ও নৈসর্গিক প্রতিভাবলে The Mundas and their Country নামক পুস্তক বঙ্গীয় সমাজকে উপহার দান করিয়াছেন। সে জন্য বঙ্গীয় শিক্ষিত সমাজ শরৎ বাবুর নিকট চিরঋণী। অনার্য্য ইতিহাস সংগ্রহে উদাসীন ভারতীয় শিক্ষিত সমাজের প্রতি লক্ষ্য করিয়া শরৎ বাবু প্রণীত গ্রন্থের ভূমিকায় খ্যাতনামা সিভিলিয়ান মিঃ ই, এ, গেট লিখিয়াছেন,—In this country which contains so many primitive tribes, possessing peculiar rights