এই প্রকারে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত চোয়াড়দিগকে সংযত করিবার, ও ইংরাজ-সরকারের সদুদ্দেশ্য তাহাদিগের নিকট বিজ্ঞাপিত করিয়া তাহাদিগকে ইংরাজ-সরকারের স্বপক্ষে আনয়ন করিবার, বিশেষতঃ তাহাদের সাহায্যে দেশে শান্তিস্থাপন করিবার, এবং তাহাদের মধ্য হইতে সহস্রাধিক প্রহরী নির্ব্বাচিত ও নিযুক্ত করিবার প্রয়োজন হইয়াছিল। তাহাদের বিশ্বাসী ও তাহাদের উপর প্রভুতাসম্পন্ন ব্যক্তি ভিন্ন অপরের দ্বারা এই কার্য সুসম্পন্ন হওয়া সম্ভাবিত ছিল না। নতন রাজা বয়সে বালক ছিলেন। প্রজাসাধারণের উপর তখনও তাঁহার প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। সুতরাং তাঁহার দ্বারা কোন কার্য্য সমাহিত হইবার সম্ভাবনা ছিল না। পরন্তু রাজা ও আবার লালসিংহের হস্তে ক্রীড়া-পুত্তলিকা মাত্র ছিলেন। ঘোর বিপৎকালে যখন রাজ্যের যাবতীয় প্রধান লোক তাঁহাকে পরিত্যাগ করিয়াছিলেন, তখন একমাত্র লালসিংহ তাঁহাকে আশ্রয় দিয়াছিলেন। সুতরাং লালসিংহের প্রতি কৃতজ্ঞ হইবার তাঁহার যথেষ্ট কারণ ছিল।
রাজ্যের মধ্যে একমাত্র লালসিংহ সকল শ্রেণীর লোকের উপর প্রভুতা প্রতিষ্ঠিত করিয়াছিলেন। লালসিংহের সংগ্রামকুশলতার ও তাঁহার চরিত্রের দৃঢ়তার কথা প্রত্যেকেই অবগত হইয়াছিল। বিশেষতঃ প্রত্যক্ষভাবে পরগণাস্থিত প্রত্যেক গ্রামের উপর কর সংস্থাপন দ্বারা লালসিংহ পরগণার প্রত্যেক অধিবাসীর উপর তাঁহার অপ্রতিহত প্রভাব বিস্তৃত করিয়াছিলেন। লালসিংহ চরিত্র ও বাহুবলে প্রত্যেক লোকের ইষ্টানিষ্ট সংসাধনে সমর্থ, এ কথা পরগণার প্রত্যেক লোক জ্ঞাত ছিল। তাহার উপর একা লালসিংহ গঙ্গাগোবিন্দের পক্ষাবলম্বন করিয়াছিলেন।