সুতরাং গঙ্গাগোবিন্দ বরাহভূমের গদিতে প্রতিষ্ঠিত হইলে অন্য সর্দ্দারগণের প্রতিভা হীনবল ও লালসিংহের মর্য্যাদা ও প্রভুত্ব সমধিক বৃদ্ধি পাইয়াছিল। ষ্ট্রাচি সাহেব নিরতিশয় সূক্ষ্মদর্শী নীতিজ্ঞ পুরুষ ছিলেন। তিনি বুঝিতে পারিলেন যে, লালসিংহের সাহায্য ও মধ্যস্থতা ব্যতিরেকে বরাহভূমে শান্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করা ও প্রজাগণকে বাধ্য করা সম্ভাবিত নহে; সেই জন্য তিনি পূর্ব্ব হইতেই লাট দরবারে জানাইয়াছিলেন যে,−
“If the Government find for the elder brother, Lalsing I believe would be the best person to bring about a negociation with the Choars.”
অর্থাৎ “রাজ্য লইয়া বিবাদকারী দুই ভ্রাতার মধ্যে সরকার বাহাদুর যদি জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার অনুকূলে বিবাদ নিষ্পন্ন করেন, তাহা হইলে চোয়াড়গণের সহিত বন্দোবস্তকার্য্য লালসিংহের যত্নে সম্পন্ন হইতে পারে।”
গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ জমীদারী প্রাপ্ত হওয়ায় ষ্ট্রাচি সাহেব অতঃপর লালসিংহের সাহায্যে বরাহভূমে শান্তি সংস্থাপনে যত্নশীল হইলেন; এবং সেই উদ্দেশ্যেই তিনি পূর্ব্ব হইতে গবর্ণমেণ্টে লিখিয়া লালসিংহের জন্য ক্ষমাভিক্ষা করিয়াছিলেন। এক্ষণে ইংরাজসরকার ও চোয়াড়গণের মধ্যস্থ হইয়া লালসিংহ চোয়াড়গণকে ইংরাজ-গবর্ণমেণ্টের অনুকূলে আনয়ন করিলেন; এবং তাহাদের মধ্য হইতে দেশে শান্তি-রক্ষার জন্য সহস্রাধিক প্রহরী নির্দ্দিষ্ট করিয়া দিলেন।
লালসিংহ বিলক্ষণ বুদ্ধিমান ছিলেন। তিনি বুঝিয়া ছিলেন তাঁহার পূর্ব্বপুরুষাচরিত মুণ্ডারি প্রথানুসারে যুদ্ধ ও দেশ লুণ্ঠন