আর অধিক দিন চলিবে না। ইংরাজ-শক্তি ক্রমশঃ বদ্ধমূল হইয়া যাবতীয় রাজ-শক্তির কর্ত্তা হইবেন। সুতরাং এই অবসরে তিনি ইংরাজ গবর্ণমেণ্টকে সাহায্য করিতে প্রস্তুত হইলেন। তাঁহার বুদ্ধি-কৌশলে অচিরে চোয়াড়গণ ইংরাজ-গবর্ণমেণ্টের বশ্যতা স্বীকার করিয়া কৃষিকার্য্যের উন্নতি-বিধানে নিযুক্ত হইল; এবং সর্দ্দারগণের যে বিপুল বাহিনী এতদিন দেশ উৎসন্ন করিতেছিল, তাহারা ইংরাজ-গবর্ণমেণ্টের শাসনাধীনে দেশের শান্তি-রক্ষার কার্য্যে নিযুক্ত হইল।
এই প্রকা্রে মার্কুইস অব্ ওয়েলেস্লির উদার নীতিমূলে, ষ্ট্রাচি সাহেবের তীক্ষ্ণ শাসন প্রতিভায়, ও লালসিংহের যত্নে বরাহভূমে শান্তি সংস্থাপিত হইল; এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে অনার্য্য ভূমিজ জাতির জাতীয় প্রভুতা নষ্ট হইয়া তাহারা কৃষি-জীবনের শান্তি ও সম্পদ উপভোগের অবসর প্রাপ্ত হুইল।
ষ্ট্রাচি সাহেবের নির্দ্দিষ্ট বিধান অনুসারে এক্ষণে ভূমিজ চোয়াড়গণ তাহাদের পূর্ব্বাচরিত দুর্দ্ধর্ষ রণ-নীতি পরিত্যাগ করিয়া অদ্যাপি পার্ব্বত্য গিরিপথ বা ‘ঘাট’ রক্ষা করিয়া দেশে শান্তিস্থাপনের সহায় হইয়াছে। এক্ষণে এতদ্দেশে তাহারা ‘ঘাটোয়াল’ বা ‘গিরিপথ রক্ষাকারী সৈন্যদলের অধ্যক্ষ’ এই নামে অভিহিত হইয়া আসিতেছে। কর্ণেল ডাল্টন ইংরাজী ১৮৭২ সালে স্বরচিত পুস্তকের ১৭৬ পৃষ্ঠায় লিখিয়াছেন,—
“With one or two exceptions all the Ghatwals (captains of the border and their man) of the Bhumij part of Manbhum aud Singhbhum Districts are Bhumij, this is a sure indication of their being