পরিশিষ্ট।
লালসিংহের জীবনীর পরিজ্ঞাত অংশ লিপিবদ্ধ হইল। এতদতিরিক্ত বিবরণ বিস্মৃতির তিমিরগর্ভে নিহিত। বর্ত্তমান সময়ে তাহার উদ্ধার সাধ্যায়ত্ত নহে।
বরাহভূমে শান্তি সংস্থাপিত হইবার পর হইতে সরকারী কাগজপত্রে আর লালসিংহের কোন উল্লেখ দেখা যায় না। ১৮৩৩ খৃষ্টাব্দে বরাহভূমের ঘাটোয়ালগণের এক তালিকা প্রস্তুত হইয়াছিল। তাহা অদ্যাবধি মানভূমের ডেপুটী কমিশনর সাহেবের মহাফেজখানায় সুরক্ষিত আছে। ঐ তালিকা দৃষ্টে লালসিংহের পুত্র পঞ্চাননসিংহ তৎকালে সতেরখানির তরফসর্দ্দার ছিলেন বলিয়া জানা যায়। উপরোক্ত তালিকা প্রস্তুত হইবার পূর্ব্ববৎসর বরাহভূমের রাজকুমার গঙ্গানারায়ণসিংহ বিদ্রোহী হইয়া এতদঞ্চলে ভয়ানক অশান্তির সৃষ্টি করিয়াছিলেন। সেই বিদ্রোহের সময়ও পঞ্চাননসিংহ সতেরখানির সর্দ্দার ছিলেন। সুতরাং ইংরাজী ১৮৩২ খ্রীষ্টাব্দের পূর্ব্বে কোন সময়ে লালসিংহ লোকান্তরলাভ করিয়াছিলেন, এই পর্য্যন্ত বুঝিতে পারা যায়।
ঘাটোয়ালীপ্রথা প্রবর্ত্তিত হইবার পর হইতে লালসিংহ সম্বন্ধে সরকারী কাগজ পত্র নীরব। তদ্দৃষ্টে অনুমান হয় যে, অতঃপর লালসিংহ শান্তভাবে জীবনের অবশিষ্টাংশ অতিবাহিত করিয়া-