ছিলেন। এই অনুমান সত্য হইলে, নিসংশয়ে বলিতে পারা যায় যে ষ্ট্রাচি সাহেবের সাম্যনীতি অপাত্রে অর্পিত হয় নাই।
লালসিংহের পর গঙ্গানারায়ণী হাঙ্গামা ও সিপাহী বিদ্রোহ উপলক্ষে এদেশে ঘোর অশান্তি ও রাষ্ট্রবিপ্লব সংঘটিত হইয়াছিল। এতদ্দেশীয় বহুসংখ্যক প্রভাবশালী ভূম্যধিকারী উপরোক্ত বিপ্লব কালে বিদ্রোহীগণের পক্ষাবলম্বন করিয়াছিলেন। কিন্তু সতের খানির সিংহপরিবার চিরকাল ইংরাজ সরকারের পৃষ্ঠপোষক থাকিয়া সরকারের শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস অর্জন করিয়া আসিতেছেন
লালসিংহ বাহুবলে পরাভূত হন নাই। নীতিকুশল ষ্ট্রাচি সাহেব ক্ষমা ও বিশ্বাসের দ্বারা লালসিংহকে জয় করিয়াছিলেন বিবিধ ঘটনার চক্রে পড়িয়া এমন কি পরবর্ত্তী বিপ্লব ও বিদ্রোহ কালে লালসিংহ ও তাঁহার বংশধরগণ ইংরাজ সরকারের শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস অক্ষুন্ন রাখিতে সমর্থ হইয়াছেন। ক্ষমা ও বিশ্বাসের নীতি দণ্ডনীতি অপেক্ষা বহুগুণে দৃঢ়তর। সতেরখানির সিংহপরিবার সম্বন্ধে এই চিরন্তন নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে নাই।
লালসিংহ প্রতাপশালী বীরপুরুষ ছিলেন; তাহা ইতিপূর্ব্বে প্রতিপন্ন হইয়াছে। পরন্তু তিনি সুশাসক ও প্রজারঞ্জক ভূস্বামী ছিলেন। ষ্ট্রাচি সাহেব এসম্বন্ধে লিখিয়াছেন যে,—
“He (Lalsing) treats his ryats well and gives them effectual protection.”
অর্থাৎ “তিনি প্রজামণ্ডলীর প্রতি সদ্ব্যবহার করেন, এবং তাহাদিগকে উপযুক্তভাবে রক্ষা করিয়া থাকেন।” সতেরখানির প্রকৃতিপুঞ্জের, বিশেষতঃ চোয়াড় সৈন্যের, যে প্রকার গঠনপ্রণালী ইতিপূর্ব্বে প্রদর্শিত হইয়াছে, তাহাতে তাহাদের মনোরঞ্জন