ব্যতিরেকে লালসিংহ কদাপি কথিতরূপে আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভ করিতে সমর্থ হইতেন না। চরিত্রের ঔদার্য্য ব্যতিরেকে কেবলমাত্র সাহস ও বাহুবলে পিতৃহীন, অসহায় শিশু বয়োবৃদ্ধি সহকারে কখনই এতাদৃশ প্রতিষ্ঠা ও আত্মগৌরব স্থাপন করিতে পারিতেন না।
যুদ্ধবিশারদ বীর মাত্রেই সন্ধি ও শান্তি স্থাপনে কৃতিত্বের পরিচয় দিতে পারেন না। সাধারণতঃ শান্তি সংস্থাপন কার্য্য অনেক সময়ে বীরধর্ম্মের বিরোধী। লালসিংহের চরিত্রে একাধারে এই উভয় গুণ বিদ্যমান ছিল। তিনি যে প্রকার বীরত্বের পরিচয় দিয়াছেন, দেশের শান্তি সংস্থাপন কার্য্যেও সেই প্রকার তীক্ষ্ণ-বুদ্ধি ও নীতিকুশলতার পরিচয় দিয়াছেন। তিনি অসাধারণ প্রতিভাবলে রাজ্যের অশান্তি বিদূরিত করিয়া তাহার স্থানে শান্তি সংস্থাপনের প্রধান অবলম্বন হইয়াছিলেন। ইহা তাঁহার জীবনের সর্ব্ব প্রধান গৌরব তৎপক্ষে সন্দেহ নাই।
লালসিংহের তীক্ষ্ণ-বুদ্ধি ও নীতিকুশলতার অপরাপর দৃষ্টান্ত ইতিপূর্ব্বে প্রদত্ত হইয়াছে। বরাহরাজবংশে ভ্রাতৃবিরোধ উপস্থিত হইলে রাজ্যের ন্যায্য অধিকারী জ্যেষ্ঠ গঙ্গাগোবিন্দের পক্ষাবলম্বন ও চিরন্তন প্রথানুসারে বিবাদকালে ও রাজসরকারে কর প্রদান ইত্যাদির বিবরণ ইতিপূর্ব্বে লিপিবদ্ধ হইয়াছে। তদ্দৃষ্টে লালসিংহের মেধা ও কূটবুদ্ধির পরিচয় প্রাপ্ত হওয়া যায়।
লালসিংহের চরিত্রের যে অংশ বিবৃত হইল, তদৃষ্টে জানা যায় যে লালসিংহ একজন কর্ম্মঠ, দৃঢ়চেতা, রণকুশল, তীক্ষ্ণবুদ্ধি, নীতিজ্ঞ, শান্তি ও সন্ধিস্থাপনে প্রতিভাশালী, এবং আত্মগৌরবে গরীয়ান পুরুষ ছিলেন। এই প্রকার চরিত্রের আলোচনা বোধ হয় কেহু নিরর্থক বলিয়া মনে করিবেন না।