বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লাল সিংহ।

রাজ্যে রাজারা প্রকৃতিপুঞ্জের শাসন ও পালনের একমাত্র অধীশ্বর ছিলেন। বঙ্গের মুসলমান শাসন ও মুসলমান সভ্যতা এই সকল অনুর্ধ্বর রাজ্যকে স্পর্শ করে নাই। রাজারা নিজ নিজ রাজ্যে, অপ্রতিহত প্রভাবে রাজশক্তি চালনা করিতেন, এবং প্রজাগণ প্রয়োজনানুসারে স্ব স্ব রাজার বিজয়-পতাকার নিম্নে সম্মিলিত হইয়া অন্য রাজার সহিত যুদ্ধ করিত। জঙ্গলমহলের অধিকাংশ স্থলে টোডরমল্লকৃত পরগণা বিভাগ নাই। ইংরাজ-শাসনের প্রারম্ভে লর্ড কর্ণওয়ালিস প্রবর্ত্তিত দশশালা বন্দোবস্ত কাল হইতে এক এক রাজার অধিকারভুক্ত যাবতীয় স্থান এক একটি পরগণা নামে অভিহিত হইয়াছে।

 জঙ্গলমহল নিতান্ত অনুর্ব্বর ও দরিদ্র স্থান থাকা হেতু বঙ্গের মুসলমান বিজেতাগণ এইস্থানে প্রভুতা বিস্তার জন্য কোন প্রকার উল্লেখযোগ্য যত্ন করেন নাই। একে দেশ নি তান্ত দরিদ্র, তাহাতে দুর্গমতাহেতু এই স্থানের বিজয় ও শাসন বিশেষ কষ্টসাধ্য ছিল। সে জন্য এই সকল নগণ্য রাজ্য আক্রমণ করিয়া অনর্থক শক্তিক্ষয় করিবার ইচ্ছা বিজেতা মুসলমানগণের মনে উদিত হয় নাই। যদি কখনও কোন মুসলমান সৈন্যাধ্যক্ষ কোন জঙ্গল রাজার রাজ্য আক্রমণ করিতেন, তিনি রাজার নিকট কিঞ্চিৎ কর আদায় করিয়া প্রত্যাবৃত্ত হইতেন। তৎকালে জঙ্গলমহলের জল-বায়ু নিতান্ত অস্বাস্থ্যকর ছিল। সুতরাং প্রভূত সৈন্যবাহিনী লইয়া কোন মুসলমান বীর দীর্ঘকাল জঙ্গলমহলে অবস্থান করেন নাই। এই প্রকার অবস্থায় মুসলমান শাসন বঙ্গের অন্যান্য স্থানের ন্যায় দৃঢ়ভাবে জঙ্গলমহলে প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। রাজাগণের মধ্যে অনেকে বহুসংখ্যক নির্দিষ্ট বেতনভোগী সৈন্য রাখিতেন,