এবং তাঁহারা অনেকে যুদ্ধে কামান প্রভৃতি তৎকাল প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহার করিতেন।
খ্রীষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে নবাব আলিবর্দ্দি খাঁর রাজত্বকালে, যখন মারাঠাগণ বঙ্গদেশ আক্রমণ ও লুণ্ঠন করিয়াছিলেন, তৎকালে জঙ্গলমহলের অন্তর্গত বিষ্ণুপুর রাজ্যের রাজার সহিত মারাঠাগণের অন্যতম দলপতি ভাস্কর পণ্ডিতের এক যুদ্ধ হইয়াছিল। সেই যুদ্ধে বিষ্ণুপুরের রাজা কামান ব্যবহার করিয়াছিলেন। ‘দল-মাদল’ (দল-মর্দ্দন) নামক প্রকাণ্ড কামান সেই যুদ্ধে ব্যবহৃত হইয়াছিল। ঐ কামান অদ্য়াবধি বিষ্ণুপুর কেল্লার প্রান্তভাগে পতিত আছে। ঐ কামানের উপর পারস্যঅক্ষরে “একলাখ” শব্দ ক্ষোদিত আছে। তদ্দৃষ্টে অনুমান হয়, মুসলমান শাসন সম্যকভাবে জঙ্গলমহলে প্রতিষ্ঠিত না হইলেও, জঙ্গলমহলের অপেক্ষাকৃত প্রভাবশালী রাজাগণ মুসলমান অধিকারস্থ স্থানের সংবাদ রাখিতেন; এবং পারস্য-ভাষাবিৎ ও মুসলমান সভ্যতার সহিত পরিচিত ব্যক্তিগণের সহিত তাঁহাদের পরিচয় ও আচার ব্যবহার ছিল। ফলতঃ ইংরাজ-শাসনের পূর্ব্বে সম্যক জঙ্গলমহল কখন একত্রিত বা বাঙ্গালা প্রদেশের একাংশীভূত হয় নাই।
জঙ্গলমহলের যে অংশ বর্ত্তমান মানভূম জেলার অন্তর্গত হইয়াছে, সেই অংশে পঞ্চকোট ও পাতকুম নামে দুইটি প্রাচীন রাজ্য আছে। এই উভয় রাজ্যের রাজারা আপনাদিগকে পশ্চিম প্রদেশাগত ক্ষত্রিয় বলিয়া পরিচয় প্রদান করিয়া থাকেন। প্রবাদ এই যে, মানভূম জেলার পূর্ব্ব-দক্ষিণাংশ যাহা এক্ষণে পরগণা বরাহভূম নামে কথিত হইয়া থাকে, তাহা পূর্ব্বে পাতকুম