বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০
লাল সিংহ।

রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। প্রাচীনকালে শ্বেত বরাহ ও নাথ বরাহ নামধারী দুই ক্ষত্রিয় রাজকুমার পশ্চিম প্রদেশ হইতে পাতকুমে আসিয়া রাজার অধীনে সৈনিক বিভাগে চাকরী গ্রহণ করিয়াছিলেন।

 গল্প এই প্রকার যে ভ্রাতৃযুগল রাজকুমার; সুতরাং তাঁহাদের মস্তক কিছুতেই অবনমিত হইত না এবং তজ্জন্য তাঁহারা কাহাকেও প্রণাম করিতেন না। ক্রমশঃ তাঁহাদের ব্যবহারে ক্ষুণ্ণ হইয়া পাতকুম রাজ্যের ব্রাহ্মণগণ রাজার নিকট অভিযোগ করিলেন যে, নবাগত সৈনিক কর্ম্মচারীদ্বয় তাঁহাদিগকে প্রণাম করেন না। রাজা এই বৃত্তান্ত শুনিয়া শ্বেত ও নাথকে দরবারে ডাকাইয়া ব্রাহ্মণগণের সম্বন্ধে তাহাদের আচরণের কারণ জিজ্ঞাসা করিলে, তাঁহারা বলিলেন যে, তাঁহারা রাজপুত্র; সুতরাং তাঁহাদের মস্তক স্কন্ধের সহিত এপ্রকার দৃঢ়ভাবে সম্বদ্ধ যে তাঁহাদের মস্তক কিছুতেই নত হয় না। রাজা সে দিন তাঁহাদিগকে কিছু না বলিয়া বিদায় করিয়া দিলেন। কিছুদিন পরে রাজা কুমারদ্বয়ের উক্তির যাথার্থ্য় পরীক্ষা করিবার উদ্দেশ্যে তাঁহাদিগকে অশ্বপৃষ্ঠে দূরবর্ত্তী স্থানে বিদায় করিয়া দিয়া উপদেশ দিলেন যে তাঁহারা সেই স্থান হইতে বেগে অশ্ব ছুটাইয়া রাজবাটীর তোরণ দিয়া একেবারে আঙ্গিনায় প্রবেশ করিবেন। ভ্রাতৃযুগল চলিয়া যাইবার পর রাজা তোরণদ্বারে এরূপভাবে . একখণ্ড তীক্ষ্ণধার করাত ঝুলাইয়া দিলেন, যে অশ্বপৃষ্ঠে দ্রুতগতিতে আগত ভ্রাতৃযুগল করাত দৃষ্টে মস্তক অবনমিত না করিলে, তাঁহাদের মস্তক ছিন্ন হইয়া যাইবে! কিছুক্ষণ পরে জ্যেষ্ঠ শ্বেত সর্ব্বাগ্রে অশ্বারোহণে তোরণদ্বারে আসিয়া পৌছিলেন, এবং তোরণদ্বারে করাত দৃষ্টে আসন্ন মৃত্যু