বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/১৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রথম পরিচ্ছেদ
১১

জানিয়াও মস্তক অবনমিত করিলেন না। তাঁহার মস্তক স্কন্ধচ্যুত হইয়া ভূপতিত হইল। তদনন্তর রাজা দূর হইতে নাথকে অশ্ব সংযত করিতে বলিলেন। নাথ অশ্ব হইতে অবতরণ করিয়া পদব্রজে তোরণদ্বারে আসিলেন এবং তথায় জ্যেষ্ঠের মৃতদেহ দেখিয়া, বিশেষ ক্ষুব্ধ হইলেন। এদিকে, রাজাও আত্মকৃতকার্য্যের জন্য বিশেষ অনুতপ্ত হইলেন। এই প্রকারে মস্তক ও কণ্ঠের দৃঢ় সংযোজন দৃষ্টে ভ্রাতৃগণের ক্ষত্রিয়ত্ব ও রাজকুমারত্ব বিশেষভাবে প্রমাণিত হইয়া গেল তখন রাজা নাথকে আপন রাজ্যের পূর্ব্বাংশ রাজ্য স্থাপন জন্য দান করিলেন। তদনুসারে নাথ বরাহ কর্তৃক নবরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হইল; এবং বরাহ ভ্রাতৃদ্বয়ের নামানুসারে রাজ্যের নাম বরাহভূম হইল।[] মহামতি কর্ণেল ডাল্টন বলেন যে নাথ বরাহের জ্যেষ্ঠভ্রাতার নাম কেশ বরাহ ছিল। কিন্তু আমরা এতদ্দেশে কেশ বরাহের নাম শুনি নাই। বরাহভূম ও পাতকুম অঞ্চলে নাথ বরাহের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার নাম শ্বেত বরাহ বলিয়াই প্রসিদ্ধ।

 বরাহভূম রাজ্যের উৎপত্তি সম্বন্ধে পাতকুম অঞ্চলে আর একটি গল্প শ্রুত হইয়া থাকে। সেখানে এই প্রকার জনশ্রুতি প্রচলিত আছে যে একদা বরাট দেশের ক্ষত্রিয় রাজা সপরিবারে শ্রীক্ষেত্র দর্শনে যাইতে ছিলেন, রাণী তৎকালে গর্ভবতী ছিলেন, কিন্তু রাজা তাহা জানিতেন না। ক্রমশঃ রাজা দীর্ঘকাল পথ অতিক্রম করিয়া একদিন সন্ধ্যাকালে সতেরখানি তরফের সন্নিহিত, পর্ব্বতপ্রান্তে রূপসান নামক গ্রামে তাম্বু


  1. Dalton's Descriptive Ethnology of Bengal P. 175.