বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রথম পরিচ্ছেদ
১৩

প্রচলিত আছে। কাহিনীর সূক্ষ্ম আবরণ ভেদ করিয়া হ্যার উইলিয়ম হাণ্টার, মহামান্য মিঃ রিজলী, মিঃ রমেশচন্দ্র দত্ত- প্রমুখ মনস্বীগণ এই সকল জঙ্গল রাজাগণকে অনার্য্য মুণ্ডাবংশীয় বলিয়া নির্দ্দেশ করিয়াছেন, আমরা সময়ান্তরে বরাহভূম সম্বন্ধে মিঃ রিজলীর উক্তি উদ্ধৃত করিব। যাহা হউক বরাহ উপাধিধারী অনার্য্য ভূমিজ সন্তান বা আর্য্য রাজকুমার দ্বারা বরাহভূম রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল; এবং সেই বরাহের নামানুসারে বরাহভূম রাজ্যের নামকরণ হইয়াছিল, ইহাই সাধারণের বিশ্বাস। বরাহভূমের বর্ত্তমান রাজা ঐ আদি বরাহরাজের বংশধর।

 ইংরাজ কর্তৃক বঙ্গাধিকারের পূর্ব্বে জঙ্গলমহলের রাজাগণ নির্দিষ্টভাবে অন্য রাজ-শক্তির অধীন হয়েন নাই। ইংরাজ-সরকার ১৭৬৫ খৃষ্টাব্দে দিল্লীর বাদসাহের নিকট হইতে বঙ্গ, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানী সনদ লাভ করিবার পরে বরাহভূম ও অন্যান্য জঙ্গল-রাজ্য প্রকৃত পক্ষে অন্য শক্তির অধীন হইয়াছে। এতদ্দেশের রাজারা সহজে ইংরাজ-শক্তির প্রাধান্য ও কর আদায়ের অধিকার স্বীকার না করায় এখানে ইংরাজগণের সহিত তাঁহাদের ঘোরতর সংঘর্ষ উপস্থিত হইয়াছিল। মহামতি ডাল্টন তাঁহার রচিত Ethnology নামক পুস্তকের ১৭৪ পৃষ্টায় লিখিয়াছেন, “I do not think that the settlement of any of the Bhumij Jungle Mohals was effected without a fight.” অর্থাৎ “আমার বোধ হয় বিনা যুদ্ধে জঙ্গলমহলের কোন রাজা ইংরাজ-সরকারের সহিত কর আদায় দিবার জন্য বন্দোবস্ত করে নাই।” দৃষ্টান্ত স্বরূপ ডাল্টন সাহেব ঘাটশীলার বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করিয়াছেন।