সর্দ্দারগণ ও তাঁহাদের অধীনস্থ পরগণার আদিম অধিবাসীগণ প্রধানতঃ ভূমিজ জাতীয়। তাহাদের পূর্ব্বপুরুষগণ সর্ব্বপ্রথমে জঙ্গলাকীর্ণ বরাহভূম পরগণায় প্রবেশ করিয়া জঙ্গল ছেদনে গ্রামস্থাপন ও কৃষিকার্য্যের উদ্বোধন করিয়াছিল। যৎকালে সভ্য আর্য্যগণ অপেক্ষাকৃত উর্ব্বর ভূমিখণ্ড হইতে আদিম অনার্য্যগণকে বিতাড়িত করিয়া ভারতবর্ষে প্রাধান্য বিস্তার করিতেছিলেন, তৎকালাবধি আদিম অনার্য্যগণ আপনাদের শিক্ষানুসারে ক্রমশঃ বন্য-জন্তুর হস্ত হইতে জঙ্গলময় দেশ উদ্ধার করিয়া সেখানে মানবসমাজের স্থাপনা করিতেছিল। এই মুণ্ডাগণ বরাহভূমের ন্যায় পরিত্যক্ত কঙ্করময় স্থানে সভ্যতার প্রথম আলোক এবং মানব জাতির প্রভুতা প্রথম সংস্থাপনের গৌরবে গৌরবান্বিত। প্রকৃতির হস্ত হইতে মানবের আবশ্যকীয় পদার্থ সংগ্রহ করিবার পন্থা উদ্ভাবন করা সভ্যতার প্রধান গৌরব। ভূমিজ বা মুণ্ডাগণ শ্রমে যত্নে সেই গৌরব অর্জ্জন করিয়াছে।
বর্ত্তমান সময়ে মানভূমবাসী ভূমিজগণ বাঙ্গালাভাষার কথা কহে। মানভূমের প্রচলিত বাঙ্গালা ভাষাই তাহাদের ভাষা। তাহারা সকলেই হিন্দুধর্ম্ম অবলম্বন করিয়াছে। পূর্ব্বপ্রদেশাগত গোস্বামী ও বৈষ্ণব মহাপ্রভুদের অনুগ্রহে ভূমিজগণ বৈষ্ণবধর্ম্মে দীক্ষিত হইয়াছে। মানভূম জেলার ভূমিজগণের মধ্যে প্রত্যেকেই আপনাকে হিন্দু বলিয়া পরিচয় দিয়া থাকে। তাহাদের মধ্যে কেহ কেহ আবার উপবীত পর্য্যন্ত গ্রহণ করিয়াছে।