বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩০
লাল সিংহ।

নামে অভিহিত হইয়াছে। এই প্রকার বিভিন্ন পরিবারের প্রতি লক্ষ্য করিয়া কর্ণেল ডাল্টন বলিয়াছেন,——

 “They formed a Congeries of Small Confederate States. Each village had its chief also called a Munda, literally a head’ in Sanskrit.”

Ethnology, p 165.

 মুণ্ডাগণের এই প্রকার বিক্ষিপ্তভাবে বাস করিবার আর একটি বিশেষ কারণ ছিল। একস্থানে বহুসংখ্যক ব্যক্তি বাস করিয়া থাকিলে বাহিরের শত্রু অতি অল্পায়াসে তাহাদিগকে জয় করিতে পারিত। দুর্গম ও বিজন স্থানে এইপ্রকারে বিক্ষিপ্ত এক একটি পরিবারকে জয় করিয়া তাহাদিগের উপর প্রাধান্য বিস্তার করা অন্য লোকের পক্ষে বিশেষ কষ্টসাধ্য হইত। পরন্তু মুণ্ডাগণও প্রকাশ্য যুদ্ধ না করিয়া বিভিন্ন দিক হইতে খণ্ডযুদ্ধে শত্রুকে নিপীড়িত করিতে পারিত। অপেক্ষাকৃত পরবর্ত্তী সময়ে মারাঠাগণও এই প্রণালীতে যুদ্ধ করিয়া বিজেতা মুসলমানগণকে বিব্রত ও পর্য্যুদস্ত করিয়াছিল।

 অনার্য্যগণের মধ্যে স্বাবলম্বন প্রবৃত্তি নিতান্ত প্রবল। তাহারা কোন কারণে অপরের কৃপাপাত্র হইবার ইচ্ছা করে না। তাহাদের এবম্প্রকার উপনিবেশ প্রথা দ্বারা এই স্বাবলম্বন প্রবৃত্তির উৎকর্ষ সাধিত হইত। ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্তভাবে বাস করিতে হইলে প্রত্যেক গৃহস্থকে গৃহস্থের ব্যবহার্য্য যাবতীয় পদার্থ প্রস্তুত করিতে হয়, এবং পরের সাহায্যের প্রত্যাশা না রাখিয়া সর্ব্বদা যুদ্ধ ও বিপদের জন্য প্রস্তুত থাকিতে হয়। এই প্রকার স্বাবলম্বন বলে মুণ্ডাগণ অদ্যাপি নিরতিশয় সাহসী, দৃঢ়চেতা ও