বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ।
৩৫

এবম্বিধ আচরণ করিত। এই নবাগত স্থানেও ভূমিজগণ দলপতির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনে ত্রুটি করিত ন॥ এই প্রথার অনুসরণ করিয়া ভূমিজগণ জঙ্গলমহল, মধ্যভারতবর্ষ ও উড়িষ্যা প্রদেশে অসংখ্য উপনিবেশ স্থাপন করিয়াছে।

 ‘খুঁট’ শব্দের প্রকৃত অর্থ ‘স্তম্ভ’। উক্ত প্রকারে নব-রাজ্যের স্থাপয়িতা: তদীয় রাজ্যের ‘খুঁট’ বা স্তম্ভস্বরূপ ছিলেন। সতেরখানি প্রভৃতি তরফের সর্দ্দারগণ তাঁহাদের অধীনস্থ ঔপনিবেশিকগণের নেতা ছিলেন। তাঁহাদিগকে লক্ষ্য করিয়া কর্ণেল ডাল্টন্‌ লিখিয়াছেন,—

“The principal of these are the representatives of the most influential of patriarchs. They originally formed the colony, and each is literally a pillar of the little state called Khunt.

Ethnology, p 191.

 রিজলি সাহেবের মতে অপেক্ষাকৃত সভ্যতার আলোক প্রাপ্ত হইয়া আদিম অবস্থার অনেক পরে ভূমিজগণ পাঁচ প্রধান খুঁট বা শাখায় বিভক্ত হইয়া বরাহভূমে উপনিবেশ স্থাপন করিয়াছিল। সাহেবের মতে বরাহভূমের চারিজন তরফসর্দ্দার ও রাজা এই পাঁচজন, সেই আদিম পঞ্চখুঁটের প্রতিনিধি। বরাহভূমের ও জঙ্গলমহলের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার, রীতি নীতি,ভাষা ও আচার ব্যবহার—বিশেষতঃ প্রজা-ভূম্যধিকারী সংক্রান্ত নিয়মাবলী সম্বন্ধে মহামান্য রিজলি সাহেবের ন্যায় অভিজ্ঞ ব্যক্তি নিতান্ত দুর্লভ। রিজলি সাহেবের এই প্রকার মন্তব্য ভ্রান্তিমূলক বলিয়া মনে করিবার কোন উপযুক্ত কারণ পরিদৃষ্ট হয় না।