বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/৫১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ
৪৩

দিয়াছিলেন। রাজ্যস্থাপয়িতা বীরের পক্ষে যুদ্ধনৈপুণ্যের পরিচায়ক উপাধি অতি প্রিয় বস্তু। সেজন্য তিনিও সাদরে ঐ নামে আত্মপরিচয় প্রদান করিতেন। এই প্রবাদ সত্য হইলে, খাঁড়েপাথরের নামানুসারে তাঁহার প্রিয় মৃগয়াক্ষেত্রের নাম খাঁড়িপাহাড়ি হওয়া বিচিত্র নহে। 'পাথর' শব্দ পাত্র শব্দের অপভ্রংশ। তৎকালে এই সকল পার্ব্বত্য প্রদেশে পাত্র বা পাথর শব্দে বিশেষ সম্মানশালী ব্যক্তি বুঝাই বরাহভূমের অপর তরফ পঞ্চমদারীর সর্দ্দারগণ অদ্যপি 'পাত্র' উপাধিতে আত্মপরিচয় প্রদান করিয়া থাকেন। লাল সিংহের সমকালে যিনি পঞ্চসর্দ্দারির অধীশ্বর ছিলেন, তাঁহার নান কিশন পাথর।

 মানভূম জেলার অন্তর্গত পাতকুম পরগণার রাজাগণ আপনাদিগকে সূর্য্যবংশীয়— ক্ষত্রিয় বলিয়া পরিচয় দিয়া থাকেন। তাঁহারা বলেন যে, তাঁহাদের পূর্ব্বপুরুষ বিক্রমাদিত্য নামধারী জনৈক বীরপুরুষ পাতকুম রাজবংশের স্থাপয়িতা। প্রবাদ এই যে, বিক্রমাদিত্য পশ্চিম ভারতবর্ষ হইতে আসিয়া বাহুবলে পাতকুম রাজ্য স্থাপন করিয়াছিলেন। পাতকুম রাজবংশে বিক্রমাদিত্য নামধেয় একাধিক রাজা ছিলেন। পাতকুম রাজবংশের জনৈক বিক্রমাদিত্যের সহিত খাঁড়েপাথরের যুদ্ধ হইয়াছিল। দীর্ঘকালব্যাপী যুদ্ধের পর উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি ও সন্ধি সংস্থাপিত হইয়াছিল। অবস্থানুসারে এ প্রকার যুদ্ধঘটনা অসম্ভব নহে। কিন্তু এ সম্বন্ধে আমরা জনশ্রুতি ব্যতীত অন্য কোন বিশ্বাসযোগ্য বিবরণ সংগ্রহ করিতে পারি নাই।

 লালসিংহ খ্রীষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে ও উনবিংশ