বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/৫৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৬
লাল সিংহ।

নামে অভিহিত হইত। রাজা, সর্দ্দার ও চোয়াড়গণের পরস্পর সম্বন্ধ এবং চোয়াড়সৈন্য গঠনের প্রণালী সময়ান্তরে সবিশেষ অলোচিত হইবে। সর্দ্দারগণ বরাহবাজের নেতৃত্ব স্বীকার করিলেও সময়ে সময়ে তাহারা রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করিতে কুণ্ঠিত হইত না, এবং অনেক সময়ে বরাহরাজের রাজশক্তি সর্দ্দারগণের নিকট মস্তক অবনত করিত।

 লালসিংহের পিতা খ্রীষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে প্রাদুর্ভূত হইয়াছিলেন। তিনি একজন প্রবল পরাক্রান্ত সর্দ্দার ছিলেন। তিনি অনেক সময় আপন বিপুল চোয়াড়বাহিনী লইয়া সমীপবর্ত্তী শ্যামসুন্দরপুর, অম্বিকানগর, সুপুর, ধলভূম, এমন কি বরাহভূম রাজ্য পর্য্যন্ত আক্রমণ ও লুণ্ঠন করিতেন। তাঁহার উপদ্রবে উপদ্রুত হইয়া উপরোক্ত রাজ্যের অধিপতিগণ নিরতিশয় অস্থির হইয়া উঠিয়াছিলেন। রাজাগণ একে একে ত্রিভন সিংহের সহিত বাহুবল পরীক্ষা করিয়া পরাস্ত হইলেন। শেষে ত্রিভন সিংহের উৎপাতে তাঁহাদের বাস করা দায় হইয়া উঠিল। উৎপীড়িত রাজাগণ ত্রিভন সিংহের উপদ্রবে নিরতিশয় পীড়িত হইয়া শেষে সকলে একত্রিত হইয়া ত্রিভন সিংহকে দমন করিবার জন্য দলবদ্ধ হইলেন। ত্রিভন সিংহ বরাহরাজের অধীন জনৈক করসর্দ্দার; সুতরাং তাঁহার আচরণে বরাহরাজের মর্ম্মবেদনা সমধিক তীব্র হইয়া উঠিল। যাবতীয় শক্তি সমবেত করিয়া ত্রিভন সিংহকে দমন করিবার জন্য বরাহরাজ অন্য রাজাগণের অগ্রণী হইলেন। এই সময়ে বঙ্গের মুসলমান শক্তি নির্ব্বাপিতপ্রায় হইয়াছিল এবং ইংরাজ শক্তি তখনও সমধিক আত্মপ্রতিভা বিকাশ করিতে সমর্থ হয় নাই। এই অবস্থায় খ্রীষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্দ্ধে ত্রিভন