সিংহের সহিত বরাহরাজ প্রমুখ:রাজাগণের দীর্ঘকালব্যাপী যুদ্ধ হইয়াছিল। এই সময়ে সম্ভবতঃ বিবেকনারায়ণ বরাহভূমের রাজা ছিলেন। রাজা বিবেকনারায়ণ খ্রীষ্টীয় ১৭৭৫ খৃষ্টাব্দে রাজ্যচ্যুত হইয়াছিলেন; এবং তাঁহার অপ্রাপ্তবয়স্ক পুত্র রঘুনাথনারায়ণ সিংহ তাঁহার হলে রাজ্যাধিকার করিয়াছিলেন। স্থানান্তরে সে সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজন হইবে। ত্রিভন সিংহের সহিত যুদ্ধে বালক রঘুনাথের নেতৃত্ব গ্রহণ করা অবস্থানুসারে অসম্ভব। বিবেকনারায়ণ বিশেষ বলশালী বীর ছিলেন। তাঁহার ন্যায় ব্যক্তির নেতৃত্বে রাজন্যবৃন্দ চালিত হওয়া অসম্ভব নহে। রাজা বিবেকনারায়ণের শাসনকাল ও ত্রিভন সিংহের প্রাদুর্ভাবকাল অন্য় হিসাবে ঠিক সমকালবর্ত্তী বলিয়া মনে হয়। খ্রীষ্টীয় ঊনবিংশ শতাব্দীর অব্যবহিত পূর্ব্বে লালসিংহ আপনার বীরত্বে ও প্রতাপে সবিশেষ প্রতিষ্ঠালাভ করিয়াছিলেন। বিশেষতঃ ত্রিভন সিংহের মৃত্যুকালে লালসিংহ নিতান্ত শিশু ছিলেন। ত্রিভন সিংহের যুদ্ধকাল খ্রীষ্টীয় উনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভের ৩০শে হইতে ৪০ বৎসর পূর্ব্বে হওয়া অবস্থানুসারে সম্ভব। তাহা হইলে সেই সময়ে বিবেকনারায়ণ বরাহুভূমের রাজা ছিলেন।
রাজা বিবেকনারায়ণের নেতৃত্বে ধলভূম, অম্বিকানগর, সুপুর ও শামসুন্দরপুরের রাজা সতেরখানি আক্রমণ করিলেন। সতেরখানির প্রান্তভাগে দীর্ঘকাল ধরিয়া ত্রিভন সিংহের সহিত সমবেত রাজন্যবর্গের যুদ্ধ হইল। অসহায় ত্রিভন সিংহ দীর্ঘকালব্যাপী যুদ্ধে ক্রমশঃ হতবল হইতে লাগিলেন। শেষে ত্রিভন সিংহ সম্মুখসমরে জয়ের আশা পরিত্যাগ করিয়া খণ্ডযুদ্ধ আরম্ভ করিলেন। মারাঠাগণের ন্যায় চোয়াড়গণ খণ্ডযুদ্ধে বিশেষ নিপুণ ছিল। একা