ত্রিভন সিংহ সুদীর্ঘকাল এইভাবে যুদ্ধ করিয়া পরিশেষে নিজ বাটালুকার গড়ে আশ্রয় লইলেন। সমবেত রাজাগণ এখানেও তাঁহার অনুসরণ করিলেন। বাটালুকার প্রান্তভাগে কাটারঞ্জা পর্ব্বতের তলদেশে উভয় পক্ষের এক ঘোরতর যুদ্ধ হইল। সেই যুদ্ধে ত্রিভন সিংহের পরাজয় হইল। কিন্তু বীরহৃদয় ত্রিভন সিংহ শত্রুকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিলেন না। মৃত্যু অবধারিত জানিয়াও ত্রিভন সিংহ অমিত পরাক্রমে সম্মুখসমরে লিপ্ত রহিলেন। অবশেষে ক্রমশঃ তাঁহার সৈন্যবল ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত ও অনেকে হত হইল। দিবা অবসানকালে ত্রিভন সিংহ সন্মুখ সমরে শত্রুগণের হস্তে নিহত হইলেন। ত্রিভন সিংহের মৃত্যু ঘটিলে, যুদ্ধ পরিসমাপ্ত হইল।
তৎকালে যুদ্ধান্তে বিজয়ী বীরগণ শত্রুরাজ্য লুণ্ঠন করিয়া অত্যাচারের একশেষ করিতেন। সমবেত রাজন্য়গণ পূর্ব্বাচরিত রণ-নীতির অনুসরণ করিয়া সতেরখানি রাজ্য লুণ্ঠন ও সেখানে অত্যাচারের একশেষ করিলেন। বাটালুকা দুর্গ লুণ্ঠিত ও ভূপ্রোথিত হইল। ত্রিভন্ সিংহের পত্নী স্বামীর মৃত্যু সংবাদ ও শত্রুগণের দুর্গাক্রমণের সংবাদ অবগত হইয়া বৃথা শোকে মুহ্যমান হইলেন না। তিনি বীরপত্নী ও বীরের জননী ছিলেন। শত্রুর করে আত্মসমর্পণ করা তিনি সমীচীন বলিয়া স্থির করিলেন না। তৎকালীন রাজারা যে প্রকার অত্যাচারপ্রিয় ও বর্বরপ্রকৃতি ছিলেন, তাহাতে হয়ত তাঁহাদের হস্তে আত্মসর্পন করিলেও তাঁহার জীবনের একমাত্র সম্বল শিশুপুত্র লালসিংহের জীবনান্ত ঘটিত। অতঃপর আমরা রাজাগণের যে সকল অত্যাচার কাহিনী লিপিবদ্ধ করিব তদ্দৃষ্টে এ প্রকার অনুমান করা অসঙ্গত নহে। ত্রিভন সিংহের পত্নী এক হস্তে