সীমন্তের সিন্দুর মুছিতে মুছিতে ও অন্য হস্তে শিশুপুত্র লালসিংহকে ক্রোড়ে লইয়া রজনীর অন্ধকারে আত্মগোপন করতঃ দুর্গ ত্যাগ করিয়া পলায়ন করিলেন। জনৈকা বালিকাভৃত্যা এই বিপৎকালেও সর্দ্দার রমণীকে পরিত্যাগ করে নাই। সে তাঁহার অনুগামিনী হইয়াছিল। বর্ত্তমান সময়ে জীবিত কোন কোন লোক ঐ ভৃত্যাকে দেখিয়াছিলেন। ঐ সকল লোক ভৃত্যার নিকট যে প্রকার বিবরণ শুনিয়াছিলেন,, তাহার এবং সতেরখানির সাধারণ জনশ্রুতিমূলে এই পরিচ্ছেদ রচিত হইয়াছে। শতাধিক বৎসর পূর্ব্বের ঘটনা সংগ্রহ করিতে হইলে জনশ্রুতিকে একেবারে বাদ দেওয়া যায় না। সুতরাং “নহ্যমূলা জনশ্রুতি” এই প্রাচীন বাক্যের উপর নির্ভর করিয়া ইতিহাসের এই পরিচ্ছেদ রচিত হইয়াছে।
যুদ্ধান্তে বাটালুকা গ্রাম, কিতাগড় এবং সতেরখানির অন্যান্য স্থান লুণ্ঠিত হইল। লুণ্ঠিত দ্রব্যনিচয় বিজয়গৌরবের নিদর্শন স্বরূপ বিজয়ী রাজারা আপনাদের মধ্যে বিভাগ করিয়া লইলেন। লুণ্ঠিত বস্তু সকলের মধ্যে সিংহপরিবারের প্রাচীন কুলদেবতা শ্রীশ্রী৺কালাচাঁদ জিউ বিগ্রহ অংশবণ্টনে সুপুরের রাজার অংশে পড়িয়াছিল। কালাচাঁদজিউ অদ্যাবধি সুপুর রাজবংশের কুলদেবতা হইয়া বাঁকুড়া জেলার প্রান্তে রহিয়াছেন।
যুদ্ধান্তে শত্রু-রাজ্য লুণ্ঠন করিয়া বিজয়ী রাজারা ত্রিভন্ সিংহের একমাত্র বংশধরের অন্বেষণ করিতে লাগিলেন। কিন্তু শিশু বা তাহার জননীর কোন উদ্দেশ মিলিল না। বিশ্বস্ত প্রকৃতিপুঞ্জ লালসিংহকে ধরাইয়া দিবার কোন চেষ্টা করিল না। তখন বিজয়ী রাজারা মহাক্রোধে সতেরখানির প্রজাগণের উপর