সপ্তম পরিচ্ছেদ।
বাল্যজীবন।
কোন সালে লালসিংহ ভূমিষ্ঠ হইয়াছিলেন, কিম্বা কোন সালে তাঁহার লোকান্তর হয়, তাহার ধারাবাহিক বিবরণ সংগ্রহ করা অসম্ভব। সদ্য-বৈধব্য-পীড়িতা বীর-জননীর অঙ্কারূঢ় শিশু লালসিংহের পুর্ব্ববর্ত্তী তদীয় জীবনের কোন চিত্র আমরা সংগ্রহ করিতে পারি নাই। নিয়তমুখরা জনশ্রুতিও এস্থলে নীরব। কল্পনার আশ্রয়ে লালসিংহের জীবনীর সেই অঙ্ক উদ্ঘাটন করিবার নিরর্থক চেষ্টা আমরা করিব না। শত্রুর হস্তে পিতৃরক্তপাতের দারুণ সন্তাপ ও তদীয় জীবন রক্ষার্থ বীর-জননীর সাগ্রহ আকুলতা; লালসিংহের জীবনীর এই প্রথম শিক্ষা ব্যতীত তৎপূর্ব্ববর্ত্তী অন্য শিক্ষার কথা আমরা অবগত হইতে পারি নাই। লালসিংহের জননী যদি স্বামী-নিধন সংবাদে “অশ্রুজলৈর্ধরাতলমভিষিঞ্চন্” রোদন করিতেন, তাহা হইলে হয় ত শিশুও জননীর অঞ্চল ধরিয়া রোদন করিয়া হৃদয়ের সন্তাপভার কথঞ্চিৎ নিরাকৃত করিত; কিন্তু সে প্রকারে অশ্রুজলে হৃদয়ের সন্তাপ অপসারিত করিবার অবসর তাঁহারা প্রাপ্ত হয়েন নাই।
ত্রিভন সিংহের মৃত্যু-সংবাদ গড়ে পৌঁছিবার পরক্ষণেই বিজয়োন্মত্ত পিশাচ প্রকৃতি শত্রু-সৈন্যের দারুণ কোলাহল গড়ের