বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/৬০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫২
লাল সিংহ।

দ্বারে পৌছিল। আর লালসিংহের জননী অপত্যস্নেহ ও কর্ত্তব্যবুদ্ধির প্রতিমূর্ত্তি স্বরূপে দুর্গের পশ্চাদ্বার দিয়া তাঁহাকে ক্রোড়ে লইয়া রজনীর অন্ধকারে ব্যাঘ্র-ভল্লুক-সমাকুল, জঙ্গলাকীর্ণ, দুর্গম পর্ব্বতপথে অন্তর্হিত হইলেন। পর্ব্বতের উপর হইতে সমস্ত রাত্রি নিম্নে বিজয়োন্মত্ত শত্রুগণের ভৈরবনিনাদ তাঁহাদের কর্ণে প্রবেশ করিয়া প্রতিক্ষণে তাঁহাদিগকে আকুল করিয়া তুলিতে লাগিল। বীরপত্নী ও বীর-জননীর তৎকালীন মানসিক অবস্থা বর্ণনা করা সাধ্যায়ত্ত নহে। এইরূপ অবস্থায় মহাকবি হেমচন্দ্র লিখিয়াছেন,

“পতি যোদ্ধা যার,  তাহার অন্তরে
কত যে সতত ভয়;
জানে সে ক’জন,  ভাবে সে ক’জন,
বীরপত্নী কিসে হয়?”

 লালসিংহের জননী রমণীর সারধন বীর-স্বামীর মৃত্যুতে তাঁহার কর্ত্তব্যের কঠোরতা সমধিক হৃদয়ঙ্গম করিলেন। তাঁহারা সমস্ত রাত্রি বিজন অরণ্যে পার্ব্বত্যপথ অতিক্রম করিয়া দিবাভাগে কখন লতাগুল্ম-পরিবৃত, গভীর অরণ্যে, কখন বা নির্জন গিরিগুহায় অবস্থান করিতেন। এই প্রকারে, বন্যফলমূলে দেহরক্ষা করিয়া তাঁহারা কয়েক দিন অতিবাহিত করিলেন। প্রবাদ আছে যে কয়েক দিবস পরে কয়েকজন বন্যলোক তাঁহাদিগের সন্ধান অবগত হইরা তাঁহাদিগকে একস্থান হইতে স্থানান্তরে লুক্কায়িত রাখিত; এবং আপনারা অক্লান্ত পরিশ্রমে দিবারাত্রি তীর ও বল্লম হস্তে সদার-রমণী ও তাঁহার শিশুসন্তানের রক্ষার জন্য বদ্ধপরিকর থাকিত সতেরখানির এই সকল বিশ্বস্ত প্রকৃতিপুঞ্জ শত্রুগণ কর্ত্তৃত হৃতসর্ব্বস্ব হইয়াও শত্রুগণকে সর্দ্দার-রমণীর, কি শিশু লাল