বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/৬২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৪
লাল সিংহ।

হইয়াছিল, যে ত্রিভন সিংহের নেতৃত্বে তাহারা বহুযুদ্ধে জয়লাভ করিয়া আপনাদের বাহুবলে নিকটবর্ত্তী রাজন্যগণকে বিব্রত ও সন্ত্রস্ত করিয়াছিল, শিশু লালসিংহ সেই বংশের একমাত্র বংশধর। সুতরাং তাহাদের গৌরবান্বিত সর্দ্দারবংশের প্রতি স্বাভাবিক শ্রদ্ধা ও অনুরাগ তাহাদিগকে এই কার্য্যে নিয়ন্ত্রিত করিয়াছিল।

 লালসিংহ আজীবন সারিগ্রামে বাস করিয়াছিলেন। সারিগ্রামের চারিদিকে পর্ব্বতমালা অভেদ্য প্রাচীরের ন্যায় মস্তক উন্নত করিয়া আছে। দুর্গম পর্ব্বতমালা উর্ত্তীর্ণ না হইলে কোন দিক দিয়া গ্রামে প্রবেশের পথ নাই। চারিদিকে পর্ব্বতমালা ও তাহার উপত্যকাভূমি নিবিড় জঙ্গলে সমাকীর্ণ। আমরা যে সময়ের বৃত্তান্ত বর্ণনা করিতেছি, তৎকালে এই সকল পর্ব্বত ও জঙ্গলে ব্যাঘ্র, ভল্লুক ও বন্যহস্তী অবাধে বিচরণ করিত। ময়ুর, শুক প্রভৃতি বন্যপক্ষী এই সকল স্থানে অদ্যাবধি দৃষ্ট হইয়া থাকে। প্রকৃতির কমনীয় শোভা ও ভীষণ বিপদসঙ্কুলতা, এই উভয়ের সংমিশ্রণ এইস্থানে যে প্রকার দৃষ্ট হইয়া থাকে, অন্যত্র সেরূপ বিরল। এই অনধিগম্য কঙ্করময় ভূখণ্ডে লালসিংহের বাল্যজীবন অতিবাহিত হইয়াছিল। প্রকৃতির সহিত নিয়ত সংগ্রামে মানব চরিত্রের যে স্বাভাবিক দৃঢ়তা জন্মে, লালসিংহের তাহাই হইয়াছিল।

 এই সকল দুর্গম, হিংস্রজন্তুপূর্ণ ভূভাগে অষ্টমবর্ষীয় কৃষক-বালক গোচারণে যাইতে হইলে তীর-ধনুক ও বল্লম প্রভৃতি অস্ত্র লইয়া গৃহের বাহির হয়; এবং দৈবক্রমে হিংস্রজন্তুর সম্মুখীন হইলে পশ্চাৎপদ না হইয়া করস্থ অস্ত্রের সাহায্যে সোৎসাহে যুদ্ধে অগ্রসর হইয়া থাকে। স্বভাবের প্রয়োজন অনুসারে মানবচরিত্র গঠিত ও পরিপুষ্ট হইয়া থাকে। সহরবাসী বালক দিবসে শশুশালায়