অন্যান্য কার্য্যের শিক্ষাই তাঁহার জীবনের প্রধান শিক্ষা। তিনি সারিগ্রামের সন্নিহিত পর্ব্বত ও জঙ্গলে সমবয়স্ক রাখাল বালকগণের সহিত তীর চালনা ও মৃগয়া করিয়া বেড়াইতেন। লালসিংহ স্বভাবের ক্রোড়ে সমবয়স্ক কৃষকবালকগণের সহিত দুর্গম পর্ব্বত ও অরণ্যে মৃগরাচারী হইয়া যে শিক্ষা ও সংস্কার লাভ করিয়াছিলেন, তাহাই তাঁহার ভবিষ্যৎজীবনে পরিস্ফুট হইয়াছিল। স্নেহময়ী বীরজননীর ক্রোড়ে প্রতিপালিত হইয়া তাঁহার চরিত্রে বংশগত বীরত্বাভিমান ও বিজয়স্পৃহা প্রবুদ্ধ হইয়াছিল। বিপন্নের রক্ষা ও শত্রুর সহিত সংগ্রাম তাঁহার জীবনের ব্রত হইয়াছিল।
লালসিংহের জননী অতিশর বুদ্ধিমতী ছিলেন। লালসিংহের শৈশবকালে তিনি রাজত্বের তত্ত্বাবধারণ, দুর্ব্বৃত্তের দমন ও আশ্রিতের পালনকার্য্য দৃঢ়তা সহকারে সম্পন্ন করিতেন। তাঁহার বুদ্ধিকৌশলে ও পালন গুণে সর্দ্দারবংশের প্রতি প্রকৃতিপুঞ্জের স্বাভাবিক অনুরাগ অক্ষুণ্ণ ছিল। লালসিংহ বাল্যকালে জননীর নিকট সমবেতরাজশক্তির নিকট জনকের পরাজয় ও হত্যার বিবরণ শুনিতেন, এবং বাহুবলে আত্মপ্রতিষ্ঠা ও পিতৃঘাতীগণের দণ্ডবিধান জন্য সংকল্প করিতেন। তাঁহার বাল্যকালীন আশা কতদূর ফলবতী হইয়াছিল তাহা ক্রমশঃ বিবৃত হইবে।
বাল্যকাল হইতে লালসিংহ মৃগয়াপ্রিয় ও অস্ত্রচালনায় নিপুণ হইয়াছিলেন। বয়োবৃদ্ধি সহকারে তাঁহার চরিত্রে সাহস, কর্ত্তব্যনিষ্ঠা, সমরকুশলতা এবং অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ক্রমশঃ পরিস্ফুট হইয়াছিল। তাঁহার বীরজননীর আদর্শচরিত্র তাঁহার হৃদয়ে প্রতিবিম্বিত হইয়াছিল। দেড় শতাধিক বৎসর পূর্ব্বে তাঁহার জননীর ন্যায় কর্তব্যনিষ্ঠাসম্পন্না, ধীমতি অনার্য্য রমণী এদেশে