অষ্টম পরিচ্ছেদ।
চোয়াড় সৈন্য।
চোয়াড়গণ সাধারণতঃ তীর, ধনুক, তরবারি ও বল্লম লইয়া যুদ্ধ করিত। বন্দুকের ব্যবহার ও তাহাদের নিকট অপরিজ্ঞাত ছিল না। পদস্থ সৈন্যগণ প্রাচীন প্রথায় নির্ম্মিত পলিতাদার বন্দুক লইয়া যুদ্ধ করিতে জানিত। সাধারণ সৈনিকের বন্দুক ক্রয় করিবার সামর্থ্য হইত না। বিষ্ণুপুরের ন্যায় এই সকল স্থানে কামান ব্যবহারের কোন চিহ্ন প্রাপ্ত হওয়া যায় না। কামানের ব্যবহার প্রচলিত থাকিলে রাজা বা সর্দ্দারগণের গড়ে তাহার কিছু না কিছু নিদর্শন প্রাপ্ত হওয়া যাইত, তৎপক্ষে সন্দেহ নাই। বিষ্ণুপুর রাজবংশের গৌরবসূর্য্য বহুকাল অস্তমিত হইয়াছে, কিন্তু অদ্যাপি বিষ্ণুপুরের গড়ে স্থানে স্থানে কামানের ভগ্নাবিশিষ্ট অংশ দেখিতে পাওয়া যায়। চোয়াড়গণ যে কখনও কামান ব্যবহার করিয়াছিল, তাহার কোন প্রমাণ বা নিদর্শন প্রাপ্ত হওয়া যায় না।
সাধারণ সৈনিকগণ পদব্রজে অসি, তীর ও বল্লম লইয়া যুদ্ধে অবতীর্ণ হইত। তীরধনুক নিম্নশ্রেণীর সৈন্যগণের সর্ব্বপ্রধান অস্ত্র ছিল। ধনুকের দণ্ড বংশনির্ম্মিত এবং তাহার গুণ বাশের ছালে প্রস্তুত হইত। বেত্র, শর বা কঞ্চির অগ্রভাগে লৌহফলাকা সংযুক্ত করিয়া তাহারা তীর প্রস্তুত করিত। চর্ম্ম-