নির্ম্মিত দুইটি তুণে শতাধিক তীর লইয়া ধনুকহস্তে চোয়াড়গণ যুদ্ধযাত্রা করিত। শিক্ষাগুণে চোরাড়েরা অ্যাবধি এক তীরে চারি পাঁচ রসি দূর হইতে ভীষণ ব্যাঘ্র ও বন্য-হস্তী পর্য্যন্ত শীকার করিয়া থাকে। শিক্ষিত ভূমিজ ও সাঁওতাল তিন চারি রসি দূর হইতে তীরের দ্বারা উচ্চস্থানে রক্ষিত সুপারিফল বিদ্ধ করিয়া থাকে। এই তীর ও ধনুক তাহাদের শ্রেষ্ঠ অস্ত্র এবং যুদ্ধের প্রধান উপকরণ ছিল। চোয়াড়গণের অদম্য সাহস, ক্ষিপ্রগতিতে পর্ব্বত আরোহণ ও অধিরোহণে পটুতা তাহাদিগকে দুর্জ্জয় করিয়া তুলিয়াছিল। শিক্ষিত ব্যক্তির হস্তে তীর ধনুক, বন্দুকের তুল্য কার্য্যকারী হইয়া থাকে। বরাহবাজারের বিদ্রোহী রাজকুমার গঙ্গানারায়ণের প্রধান পৃষ্ঠপোষক জিরপা লায়ার তীর-চালনা-নৈপুণ্যের প্রবাদ অদ্যাপি শতমুখে এই সকল স্থানে পরিকীর্ত্তিত হইয়া থাকে। অপেক্ষাকৃত পদস্থ সৈনিকেরা অশ্বপৃষ্ঠে বন্দুক হস্তে সৈন্যদলের অগ্রবর্ত্তী হইতেন।
সাধারণ সৈনিকগণের বেশভূষা অতি সামান্যরূপ ছিল। স্বল্পপরিসর মোটা ধুতি ও ঐরূপ বস্ত্রের পাগড়ী ব্যতীত তাহাদের অপর কোন পরিচ্ছদ ছিল না। অপেক্ষাকৃত পদস্থ সৈনিকগণ ধুতি ও পাগড়ী ব্যতীত কোর্ত্তা বা হাতকাটা জামা ব্যবহার করিত। কোন কোন যোদ্ধা লৌহনির্ম্মিত-বর্ম্মে দেহরক্ষা করিতেন এ প্রকার প্রবাদ ও শ্রুত হইয়া থাকে। মোটের উপর চোয়াড়গণের অস্ত্র শস্ত্র ও তাহাদের পরিচ্ছদ নিতান্ত মোটামুটি রকমের ছিল।
ভূমিজদিগকে পূর্ব্বে নিকটবর্ত্তী লোকে ঘৃণাসূচক চোয়াড় আখ্যায় অভিহিত করিত। নিকটবর্ত্তী স্থানসকলের অধিবাসীগণ