আমরা যে সময়ের কথা লিপিবদ্ধ করিতেছি, তৎকালে সর্দ্দারগণের জাতীয় গৌরব ও প্রভুতা অক্ষুণ্ণ ছিল; এবং সদিয়ালগণ আপনাদের অধীনস্থ গ্রাম্যসর্দ্দার ও তাঁবেদারগণকে লইয়া সর্দ্দারের অধীনে যুদ্ধ করিত। প্রত্যেক সদিয়ালের অধীনে নির্দ্দিষ্ট দ্বাদশ কি পঞ্চদশ গ্রাম ছিল; এবং প্রত্যেক গ্রামে এক একজ গ্রাম্যসর্দ্দার ছিল। পরন্তু প্রত্যেক গ্রাম্যসর্দ্দারের অধীনে নির্দিষ্টসংখ্যক তাঁবেদার বা সর্ব্বনিম্নশ্রেণীর সৈনিক ছিল। এই সকল সৈন্যগণ প্রভুতা স্বীকারের নিদর্শনস্বরূপ উপরস্থ ব্যক্তিকে সামান্য নির্দিষ্ট পঞ্চককর আদায় দিত। পরন্তু যুদ্ধবিগ্রহ ঘটিলে, তাহারাই সর্দ্দারের প্রধান পৃষ্ঠপোষকরূপে যুদ্ধ করিত।
সদিয়ালগণ পদমর্য্যাদা ও বিক্রমে সর্দ্দারের অধীনস্থ হইলেও, সর্দ্দারকে অনেক সময়ে সদিয়ালগণের মুখাপেক্ষা করিতে হইত। সদিয়ালগণ সদ্দারের দরবারে বিশেষ সম্মানপ্রাপ্তির দাবি রাখিত; এবং অনেক বিষয়ে সর্দ্দারকে সদিয়ালগণের পরামর্শ লইয়া কার্য্য করিতে হইত। সদিয়ালগণ সময়ে সময়ে সর্দ্দারের বিরুদ্ধেও অভিযান করিত। রিজ্লী সাহেব তাঁহার কৃত ঘাটোয়ালিরিপোর্টের একস্থানে লিখিয়াছেন যে−
“One of these men (the Sadial of Katjore) seems to have been practically independent in 1800. Their position is a very strong one as against the Taraf Sarders.”
এবম্প্রকার সৈন্যবিভাগের সহিত ভূমিজদিগের আচরিত মুণ্ডারি উপনিবেশ প্রথার বিশেষ সম্বন্ধ আছে। এই প্রকার সৈন্য বা প্রজাবিভাগ মুণ্ডা জাতীয় ঔপনিবেশিকগণের বিশেষ