সারিগ্রামের কিছুদূরে আমদাপাহাড়ি নামে একটি গ্রাম আছে। ঐ গ্রামে একদা একদল নাগাসন্ন্যাসী আসিয়া বলপূর্ব্বক একটি বাঁধখনন আরম্ভ করিয়া ছিলেন। সাধারণতঃ হিমালয় পর্ব্বতের সমীপবর্ত্তী অনার্য্য দেশের অধিবাসীগণ এতদ্দেশে ‘নাগা’ বা স্থানীয় ভাষায় ‘লাগা’ নামে কথিত হইয়া থাকে। ঐ শ্রেণীর সন্ন্যাসীগণ অনেকেই অতি দুর্দ্ধর্ষপ্রকৃতি, যুদ্ধবিদ্যাবিশারদ ও নিতাত্ত উগ্র-স্বভাব। তাহারাও আদিম মুণ্ডা জাতিগণের ন্যায় নিরতিশয় কলহপ্রিয় ও স্বাধীন প্রকৃতি। তৎকালে এই শ্রেণীর সন্ন্যাসীগণ যুদ্ধবিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী হইত। নাগাগণ কিছুদিন আমদাপাহাড়ি গ্রামে বাস করিয়া বলপূর্ব্বক বাঁধ বা দীর্ঘিকা খনন আরম্ভ করিল। এতদ্দেশের প্রচলিত নিয়মানুসারে সর্দ্দারের অনুমতি ভিন্ন কেহ কোন বাঁধ খনন কি তাহার প্রতিষ্ঠা করিলে তাহাতে সর্দ্দারের রাজশক্তির অবমাননা করা হয়। অদ্যাপি চিরন্তন প্রথা অনুসারে কেহ কোন বাঁধ খনন করিতে ইচ্ছা করিলে সর্দ্দারের অনুমতি লইয়া থাকেন। লালসিংহ তখনও বালক; সবেমাত্র জীবনের কৈশোর সীমা অতিক্রম করিতেছেন। লালসিংহ মনে করিলেন তাঁহাকে অল্পবয়স্ক দেখিয়া তাঁহার প্রতি অবজ্ঞা বশতঃ নাগাগণ ঐ প্রকার ব্যবহার করিতেছে। সদ্দার নাগাগণকে নিষেধ করিয়া পাঠাইলেও তাহারা অবজ্ঞা বশতঃ তাহা গ্রাহ্য করিল না। এদিকে তাহারা ক্রমশঃ ঐ স্থানে আপনাদের বাসস্থান নির্ম্মাণ করিতে লাগিল এবং দেবালয় প্রতিষ্ঠিত করিল। নাগাগণের এবম্প্রকার গর্হিত আচরণে লালসিংহ নিরতিশয় ক্ষুব্ধ হইলেম।
মুণ্ডা জাতির চিরাচরিত প্রজাতন্ত্র-প্রণালী অনুসারে সতেরখানির