চারি শত ছিল, এবং তাহারা সকলেই সাহসী, উগ্রস্বভাব ও অস্ত্রচালনায় সুপটু ছিল। তৎকালপ্রচলিত অস্ত্র-শস্ত্র তাহাদের যথেষ্ট পরিমাণে ছিল। তাহারা অমিততেজে সর্দ্দারের আক্রমণ প্রতিরোধ করিবার চেষ্টা করিল। যে স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছিল তাহ পরিচ্ছেদান্তরে বর্ণিত ‘বচ্ছিগাদার’ সমীপবর্ত্তী। সারাদিন উভয় পক্ষের ঘোরতর যুদ্ধ হইল। সর্দ্দারের সৈন্যগণ বহুবার বেগে নাগাগণকে আক্রমণ করিল, কিন্তু নাগাগণ কিছুতেই পশ্চাৎপদ হইল না। এক একজন নাগা যুদ্ধে হত হইতে লাগিল, আর অবশিষ্ট নাগাগণ তত ভীষণবিক্রমে সংগ্রামে রত হইল। নাগারা বিলক্ষণ জানিত যে যুদ্ধে পশ্চাৎপদ কি পলায়মান হইলে তাহাদের আর রক্ষা ছিল না। নাগারা একবার হঠিলে কি পশ্চাৎপদ হইলেই চারিদিক হইতে চোয়াড়গণ তাহাদিগকে আক্রমন করিয়া তাহাদিগকে একেবার সবংশে হত্যা করিবে। পরন্তু নাগাগণ বিদেশাগত; কিন্তু নিকটবর্ত্তী গিরিপথ সকল চোয়াড়গণের নিকট সম্পূর্ণভাবে পরিজ্ঞাত ছিল। সুতরাং যুদ্ধে ভঙ্গদিয়া তাহারা কিছুতেই রক্ষা পাইবেনা। সেজন্য তাহারা শেষ পর্য্যন্ত যুদ্ধ করিতে কৃতসংকল্প হইল। প্রবাদ আছে যে যতক্ষণ পর্য্যন্ত একজন নাগা জীবিত ছিল ততক্ষণ পর্য্যন্ত যুদ্ধের বিরাম হয় নাই। প্রাক্কালে যাবতীয় নাগা ধ্বংশ প্রাপ্ত হইলে যুদ্ধ শেষ হইল। বিজয়লক্ষ্মী লালসিংহকে বরমাল্য প্রদান করিলেন। সুদীর্ঘকাল পরে সতেরখানির প্রকৃতিপুঞ্জ সময়-বিজয়ের আনন্দলাভ করিয়া উৎফুল্ল হইল। এই যুদ্ধে লালসিংহের সাহস ও বীরত্ব দর্শনে তাহারা গৌরব অনুভব করিতে লাগিল। সতেরখানির ঘরে ঘরে উৎসবের তরঙ্গ উত্থিত হইল।
পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/৮০
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭২
লাল সিংহ।