আমরা পূর্ব্বে ত্রিভন্ সিংহের যুদ্ধে সতেরখানির কুলদেবতা কালাচাঁদ জিউ লুণ্ঠিত হওয়ার বৃত্তান্ত বর্ণনা করিয়াছি। নাগাযুদ্ধান্তে নাগাগণের উপাস্য দেবতা এক পরম সুন্দর, প্রস্তরময় বিগ্রহ চোয়াড়গণের হস্তগত হইল। এই উপলক্ষে কালাচাঁদ-লুণ্ঠনের ক্ষোভ তাহাদের মনে সমুদিত হইল। তাহারা নাগাগণের উপাস্য দেবতার রমণীয় মূর্ত্তি দর্শনে তাঁহাকে তাহাদের হৃতপূর্ব্ব কালাচাঁদ বলিয়া বরণ করিল। চোয়াড়গণ মহাসমারোহে এই নবার্জ্জিত কালাচাঁদজিউকে বহন করিয়া সারিদুর্গে লইয়াগেল। লালসিংহ যথাবিধি হিন্দু-শাস্ত্রানুমোদিত প্রথানুসারে কালাচাঁদজিউর প্রতিষ্ঠাকার্য্য সম্পন্ন করাইলেন। তদবধি কালাচাঁদজিউ সতেরখানি সিংহপরিবারের কুলদেবতা হইয়াছেন।
নাগা-যুদ্ধে বিজিত একখানি খাণ্ডা অদ্যাপি সর্দ্দারগৃহে সযত্নে রক্ষিত ও পূজিত হইয়া আসিতেছে। তৎকালেচোয়াড়গণ বিশ্বাস করিত যে, ঐ খাণ্ডা মহতীশক্তিসম্পন্ন এবং সিদ্ধপুরুষদত্ত। নাগাগণ ও ঐ খাণ্ডার বলে আপনাদিগকে অজেয় মনে করিত। ঐ খাণ্ডা অদ্যাপি প্রতিবৎসর বীরাষ্টমীর দিন মহাসমারোহে পূজিত হইয়া থাকে; সর্দ্দারের মরণান্তে যখন নূতন সর্দ্দার গদিতে আরোহণ করেন, তখন ঐ খাণ্ডা হস্তে করিয়া তাঁহাকে গদিতে বসিতেহয়।
আমদাপাহাড়ী গ্রামের প্রান্তভাগে অদ্যাপি নাগাগণের খনিত বাঁধ ও তাহাদের নির্ম্মিত দোলমঞ্চ দৃষ্ট হইয়া থাকে; এবং নাগাবিজয়ের নিদর্শন স্বরূপ আমদাপাহাড়ী গ্রাম নাগাবাঁধ আমদাপাহাড়ী নামে কথিত হইয়া আসিতেছে।