এই নাগাযুদ্ধ উপলক্ষে কোন কোন শান্তিপ্রিয় পাঠক লালসিংহের চরিত্রে দোষারোপ করিতে পারেন। সতেরখানির মধ্যে নাগাগণের অধিকৃত স্থানের অনুরূপ পতিত, জঙ্গলাকীর্ণ বহুস্থান অদ্যাপি বিদ্যমান রহিয়াছে। বিদেশাগত সন্ন্যাসীর দল সামান্য কঙ্করময় পতিত, ভূমিখণ্ড অধিকার করিয়া থাকিলে, তাহাতে সর্দ্দারের কিছুমাত্র ক্ষতি বৃদ্ধি ছিল না। কিন্তু নাগাগণের ব্যবহার ও তৎকালীন সামাজিক অবস্থা পর্য্যালোচনা করিলে, এই ব্যাপারে আমরা লালসিংহের কোন দোষ দেখিতে পাই না। গৌরব ও মর্য্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক রাজার বিশেষভাবে কর্ত্তব্য। সেই রাজকর্ত্তব্যের অনুরোধে, নিজ প্রতিপত্তি অক্ষুণ্ণ রাখিবার জন্য, লালসিংহ এই যুদ্ধে ব্রতী হইয়াছিলেন। নাগাগণ যে প্রকার দরিদ্র ও ভিক্ষোপজীবী সন্ন্যাসী ছিল, তাহাতে তাহাদিগকে পরাস্ত করিয়া সর্দ্দার কোন আর্থিক লাভ করিতে সমর্থ হন নাই। কেবলমাত্র কর্ত্তব্যবুদ্ধি প্রণোদিত হইয়াই তিনি এই যুদ্ধের অনুষ্ঠান করিয়াছিলেন; এবং এই যুদ্ধে লালসিংহ আপনার কর্ত্তব্যানুরাগেরই পরিচয় দিয়াছেন, তাহা আমরা মুক্তকণ্ঠে বলিতে বাধ্য।
