বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/৮৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৮
লাল সিংহ।

স্থান ত্যাগ করিয়া নিজ রাজ্যে প্রত্যাবৃত্ত হইতে বাধ্য হইয়াছিলেন।”

 ইহা খৃষ্টিয় ১৮০০ খৃষ্টাব্দের কথা। ষ্ট্রাচি সাহেবের উপরোক্ত পত্র ১৮০০ খৃষ্টাব্দের ১৩ই এপ্রেল তারিখে লিখিত হইয়াছিল; কিন্তু ঐ ঘটনার পরে লালসিংহ পুনরায় ঘাটশীলা-রাজ্য আক্রমণ করিয়া কয়েকখানি গ্রাম পুনরধিকার করিয়াছিলেন। তাঁহার বংশধর পঞ্চানন সিংহ ভূঞা ঐ সকল গ্রাম দখল করিতেন। ইংরাজী ১৮৩৩ খৃষ্টাব্দে সরকার বাহাদুরের আদেশে বরাহভূম পরগণার যাবতীয় ঘাটোয়ালী জায়গার এক তালিকা প্রস্তুত হইয়াছিল। ঐ তালিকায় ঘাটশীলার অন্তর্গত কয়েকখানি গ্রাম লালসিংহের পুত্র পঞ্চানন সিংহের দখলে থাকা জানিতে পারা যায়।

 বরাহুভূমের জমিদার লালসিংহের সর্ব্বপ্রধান পিতৃশত্রু ছিলেন। লালসিংহ নামে বরাহ-রাজের অধীন হইলেও কার্য্যতঃ তাঁহার যথেষ্ট স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা ছিল। তিনি রাজাকে নির্দ্দিষ্ট রাজস্ব কর আদায় দিতেন, তাহাতে তাঁহার কোন ত্রুটী লক্ষিত হয় না। কিন্তু আবশ্যক ও সুবিধা অনুসারে বরাহভূম-রাজ্য লুণ্ঠন করিতেও তিনি পশ্চাৎপদ হন নাই।

 এই সময়ে বরাহভূম রাজ্যের রাজ্যাধিকার লইয়া বিষম গোলযোগ উপস্থিত হয়। স্থানান্তরে ঐ গোলযোগ ও তৎসংক্রান্ত ব্যাপারে লালসিংহের সম্বন্ধ বিশদভাবে লিপিবদ্ধ হইবে। ঐ গৃহবিবাদের সূত্র ধরিয়া লালসিংহ একাধিকবার বরাহভূম রাজ্য আক্রমণ করিয়াছিলেন। কখন একা, কখন বা অন্য সর্দ্দারগণের সহিত মিলিত হইয়া, তিনি বরাহভূম রাজ্য ও বরাহভূম রাজার