স্থান ত্যাগ করিয়া নিজ রাজ্যে প্রত্যাবৃত্ত হইতে বাধ্য হইয়াছিলেন।”
ইহা খৃষ্টিয় ১৮০০ খৃষ্টাব্দের কথা। ষ্ট্রাচি সাহেবের উপরোক্ত পত্র ১৮০০ খৃষ্টাব্দের ১৩ই এপ্রেল তারিখে লিখিত হইয়াছিল; কিন্তু ঐ ঘটনার পরে লালসিংহ পুনরায় ঘাটশীলা-রাজ্য আক্রমণ করিয়া কয়েকখানি গ্রাম পুনরধিকার করিয়াছিলেন। তাঁহার বংশধর পঞ্চানন সিংহ ভূঞা ঐ সকল গ্রাম দখল করিতেন। ইংরাজী ১৮৩৩ খৃষ্টাব্দে সরকার বাহাদুরের আদেশে বরাহভূম পরগণার যাবতীয় ঘাটোয়ালী জায়গার এক তালিকা প্রস্তুত হইয়াছিল। ঐ তালিকায় ঘাটশীলার অন্তর্গত কয়েকখানি গ্রাম লালসিংহের পুত্র পঞ্চানন সিংহের দখলে থাকা জানিতে পারা যায়।
বরাহুভূমের জমিদার লালসিংহের সর্ব্বপ্রধান পিতৃশত্রু ছিলেন। লালসিংহ নামে বরাহ-রাজের অধীন হইলেও কার্য্যতঃ তাঁহার যথেষ্ট স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা ছিল। তিনি রাজাকে নির্দ্দিষ্ট রাজস্ব কর আদায় দিতেন, তাহাতে তাঁহার কোন ত্রুটী লক্ষিত হয় না। কিন্তু আবশ্যক ও সুবিধা অনুসারে বরাহভূম-রাজ্য লুণ্ঠন করিতেও তিনি পশ্চাৎপদ হন নাই।
এই সময়ে বরাহভূম রাজ্যের রাজ্যাধিকার লইয়া বিষম গোলযোগ উপস্থিত হয়। স্থানান্তরে ঐ গোলযোগ ও তৎসংক্রান্ত ব্যাপারে লালসিংহের সম্বন্ধ বিশদভাবে লিপিবদ্ধ হইবে। ঐ গৃহবিবাদের সূত্র ধরিয়া লালসিংহ একাধিকবার বরাহভূম রাজ্য আক্রমণ করিয়াছিলেন। কখন একা, কখন বা অন্য সর্দ্দারগণের সহিত মিলিত হইয়া, তিনি বরাহভূম রাজ্য ও বরাহভূম রাজার