বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/৯১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
একাদশ পরিচ্ছেদ।
৮৩

তৎকালে এতদ্দেশে ছিল না; সুতরাং প্রজাগণও লালসিংহের আশ্রয়ক্রয়ের জন্য এবম্বিধ কর আদায় দিয়া সুখী হইয়াছিল

 যদি কোন গ্রামের প্রজাগণ নির্দ্দিষ্ট দিনে লালসিংহকে এই কর আদায় না দিত, তবে তাহাদের আর কোনরূপে রক্ষা ছিল না। লালসিংহ সবলে গ্রাম আক্রমণ করিয়া গ্রামবাসীদিগের যথাসর্ব্বস্ব লুণ্ঠন করিতেন। এই ভয়ে ঐ কর আদায়ে কখন কোন গোলযোগ ঘটে নাই।

 আমরা পূর্ব্বে বলিয়াছি যে এতদ্দেশে ইংরাজশক্তি বদ্ধমূল হইবার পূর্ব্বে রাজারাই প্রজাগণের শাসন ও পালনের একেশ্বর প্রভু ছিলেন। রাজ্যে নানাপ্রকার গোলযোগ ঘটায় তৎকালে রাজা প্রজাগণকে রক্ষা করিতে সমর্থ হয়েন নাই। এদিকে আবার ইংরাজ-শক্তি তখনও:দেশের যাবতীয় অশাস্তি বিদূরিত করিয়া আত্মপ্রতিষ্ঠা স্থাপিত করিবার অবসর পায় নাই! এই অবস্থায় প্রজাগণ নিতান্ত অসহায় হইয়া অবশেষে ভুঞার প্রাধান্য স্বীকার করিতে বাধ্য হইয়াছিল। লালসিংহও তাহাদিগকে যথোচিত আশ্রয় দিয়াছিলেন।

 ইতিহাসে এপ্রকার করস্থাপনের অনেক দৃষ্টান্ত আছে, কিন্তু ইংরাজ-শাসনের প্রারম্ভে ইংরাজশক্তিকে প্রতিরুদ্ধ করিয়া এবম্প্রকার কর স্থাপনের দৃষ্টান্ত নিতান্ত সুলভ নহে। এই কর ‘সুখনিদি’ নামে অভিহিত হইত। ইহা প্রজাগণের সুখে নিদ্রা যাইবার কর বলিয়া ‘সুখনিদি’ আখ্যা প্রাপ্ত হইয়াছিল। বরাহ-রাজের প্রতি এবম্প্রকার কঠোরতা দ্বারা লালসিংহ আপনার পিতৃহত্যার প্রতিশোধ লইয়াছিলেন। বরাহ-রাজ সর্দ্দারগণকে আপনাদের অধীন বলিয়া মনে করিতেন। সুতরাং জনৈক সর্দ্দার কর্ত্তৃক