আসিতেছিল, অকস্মাৎ তাহার আমূল পরিবর্ত্তন সংঘটিত হইত। এবম্প্রকার পরিবর্ত্তনের ফল তাঁহার বা তদীয় বংশধরগণের উপর শুভকর হইত বলিয়া মনে হয় না। আবার হয়ত তাঁহার দৃষ্টান্তে তাঁহার অধীনস্থ সদিয়ালগণ তাঁহার অধীনতাপাশ ছিন্ন করিয়া স্বাধীন হইবার চেষ্টা করিত। এবং সেরূপ হইলে তাঁহার উন্নতির পথ বন্ধ হইয়া, তাঁহাকে জমীদারীর আভ্যন্তরীণ ব্যাপার লইয়া ব্যস্ত হইয়া পড়িতে হইত। সুতরাং সম্মুখে বাহিরের ঠাট রজায় রাখিয়া লালসিংহ বিশেষ বুদ্ধিমত্তা এবং কূটনীতি-কুশলতার পরিচয় দিয়াছিলেন। পলাশী-বিজয়ী বৃটিশ্ বীরগণ যে যুদ্ধান্তে দিল্লীর বিগতপ্রতাপ বাদসাহের নিকট হইতে বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানীসনন্দ লাভের জন্য ব্যগ্রতা প্রকাশ করিয়াছিলেন, তাহারও কারণ কতকটা এইরূপ। এই প্রকার নীতিকুশলতা রাজনৈতিক উন্নতির মূলসূত্র। লালসিংহ সেই মন্ত্রে বিশেষ অভিজ্ঞ ছিলেন।
অপর দিক্ হইতে দৃষ্টি করিলেও এই ব্যাপারে আমরা লালসিংহের ভূয়সী প্রশংসা না করিয়া থাকিতে পারি না। আমরা যে সময়ের বৃত্তান্ত বর্ণিত করিতেছি, সে সময়ে বঙ্গের মুসলমান-শক্তি নির্ব্বাপিত হইয়া ইংরাজ-শক্তি ক্রমশঃ প্রাধান্য লাভ করিতেছিল। দুদিন অগ্রপশ্চাৎ সকলকেই ইংরাজ-শক্তির নিকট মস্তকাবনত করিতে হইয়াছে। এই সময়ে জঙ্গলমহলের অন্যতম প্রধান রাজ্য বিষ্ণুপুরের রাজা রাজস্ব কর আদায় না করায়, তাঁহার বিশাল জমীদারী বিক্রীত হইয়া যায়। বিষ্ণুপুরের জমীদার যদিও বাহুবলে কিছুদিন ক্রেতাকে বেদখল রাখিয়াছিলেন, তথাপি শেষ পর্য্যন্ত তাঁহাকে সর্ব্বস্বান্ত হইতে হইয়াছে। যদি