বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/৯৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৯০
লাল সিংহ।

 ইষ্টইণ্ডিয়া কোম্পানীর দেওয়ানীসনন্দ লাভের সমকালে রাজা বিবেকনারায়ণ বরাহভূমের রাজা ছিলেন। রাজা বিবেক নারায়ণ বিশেষ শক্তিশালী ও যুদ্ধবিশারদ বীর ছিলেন। তিনি ত্রিভসিংহের সহিত যুদ্ধে অন্যান্য রাজাগণের নেতৃত্ব করিয়াছিলেন, · তাহা পূর্ব্বে বিবৃত হইয়াছে। জঙ্গলমহলের রাজাগণ ইতিপূর্ব্বে রীতিমতরূপে কখন মুসলমান শাসনের অধীন হয় নাই। সুতরাং রাজা বিবেকনারায়ণ সহজে ইংরাজশক্তির নিকট মস্তক অবনত করিতে সম্মত হইলেন না। তিনি আপনার সৈন্যদল লইরা ইংরাজসরকারের সহিত যুদ্ধঘোষণা করিলেন। উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরিয়া বিবাদ ও শত্রুতা চলিতে লাগিল। শেষে বিবেকনারারণ পরাস্ত হইলেন। বাঙ্গালা ১১৮২ সালে বিবেকনারায়ণ ইংরাজ সরকার কর্তৃক রাজ্যচ্যুত হইলেন। তাঁহার দুই পূত্রের মধ্যে জ্যেষ্ঠ রঘুনাথনারায়ণকে রাজ্য অর্পণ করিয়া ইংরাজসরকার তাঁহার সহিত বরাহভুম পরগণার বন্দোবস্ত সম্পন্ন করিলেন। পরবর্ত্তী দশশালা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত রাজা রঘুনাথনারায়ণের সহিত সমাহিত হইয়াছিল। রাজা বিবেকনারায়ণ এই প্রকার বন্দোবস্তে সম্মতি প্রদান করিয়াছিলেন। কিন্তু তিনি আজীবন কখন কোন রাজ শক্তির অধীনতা স্বীকার করেন নাই; সুতরাং নিজে ইংরাজ সরকারকে কর দিতে স্বীকৃত হইলেন না। অতঃপর বিবেকনারায়ণ রাজ্যের সহিত যাবতীয় সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন করিয়া, ঘনের দুঃখে বান গ্রন্থ অবলম্বন করিয়া নির্জ্জনে ঈশ্বরসেবায় জীবনের অবশিষ্ট ভাগ অতিবাহিত করিয়াছিলেন। বিবেকনারারণের সম্বন্ধে খৃষ্টীয় ১৮০০ সালে মিঃ ইরাষ্ট লিখিয়াছেন-