বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লেখকের কথা - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভা র তে র ম র্ম বা ণী

রূপ দেবার চেষ্টা করতে হয়। অপরপক্ষে, ‘রামলীলা’র টেকনিক নিলে ঘটনা সাজিয়ে সাজিয়ে গড়ে তুলতে হয় বিস্তৃত কাহিনী, ঘটনার তাৎপর্য গেঁথে গেঁথে সম্পুর্ণতা দিতে হয় মূল ভাবধারাকে। এক্ষেত্রে ঘটনাই সর্বস্ব, কাজেই প্রত্যেকটি ঘটনাকে দিতে হয় কলাসম্মত গঠন ও রূপ। নৃত্য-নাট্য আবার বেশি দীর্ঘ হলে জমে না।

 এদিক দিয়ে বিচার করলে তবেই ঠিকমতো উপলব্ধি করা যায়, ‘ভারতের মর্মবাণী’ নৃত্য-নাট্যটির পরিকল্পনা ও অভিনয় ভারতীয় গণ-নাট্যসঙ্ঘের কত বড় কৃতিত্বের পরিচয়। ইংরেজের এদেশে পদার্পণের সময় থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত ভারতের জাতীয় জীবনের ইতিহাসকে উচ্চাঙ্গের নৃত্য-নাট্যে রূপায়িত করার একমাত্র যে টেকনিক, এঁরা সেটি খুঁজে বার করে কাজে লাগিয়েছেন; যার দ্বারা নৃত্য-নাট্যে, ঘটনার বাস্তব নির্দেশ ও ভাব-সংঘাতের রূপকধর্মী অভিব্যক্তির সমন্বয় ঘটানো সম্ভব হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের লোক-নৃত্য, পল্লীগীতি প্রভৃতির সরলতা, স্পষ্টতা ও বলিষ্ঠতা এঁরা এদের নৃত্য-নাট্যে সঞ্চারিত করেছেন। সব রকম বাহুল্য, জটিলতা ও আড়ম্বর বর্জন করা হয়েছে। সুর ও ধ্বনি সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে সাধারণ কয়েকটি যন্ত্র।

 পল্লী-চারণের গাথা, লোক-নৃত্য ও লোক-সঙ্গীতের ছন্দ সুর এবং ধ্বনি, ভঙ্গি আলোকপাত ও অপূর্ব অভিনয়-নৈপুণ্যের সমন্বয়ে ‘ভারতের মর্মবাণী’ হয়েছে

৯৯