বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লেখকের কথা - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১১২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

লে খ কে র ক থা

আরেক প্রমাণ, লেখা থেকে লেখককে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার যুক্তির মধ্যে পাই। “অচিন্ত্যকুমার হাকিম কিনা তা জানবার প্রয়োজন গল্প সমালোচনায় নেই, তিনি কৃষকসভার রিপোর্ট থেকে গল্প লেখেন কিনা তাও জানবার প্রয়োজন নেই।” অর্থাৎ শুধু লেখার বিচার করো, লেখককে বাদ দিয়ে।লেখা যেন আকাশ থেকে পড়ে—লেখক সম্পর্কে কিছুই না জেনে যেন লেখার সমালোচনা সম্ভব! শোলোকভ বা গোর্কির জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায় না বাংলাদেশে তা যেন না জানলেও চলে সমালোচকের। অচিন্ত্যকুমারের কলম কেন অনেকদিন থেমে ছিল, কেন আবার পূর্ববঙ্গের চাষীদের নিয়ে বিশেষ ধরনের গল্পের ফসলের আশ্চর্য ফলন শুরু হলো! কেবলমাত্র পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি যে দু’তিনখানা গল্পের বই দান করলেন, বাংলা সাহিত্যে যা সম্পূর্ণ নতুন প্রচেষ্টা, কোন্ সূত্রে এই নতুন উপাদানের সন্ধান তিনি পেলেন, আইন আদালত তাঁর সাম্প্রতিক গল্পে কেন এতটা প্রাধান্য পেলো, এ সর না জেনেই যেন তার গল্পের সঠিক সমালোচনা সম্ভব! প্রকৃতপক্ষে, বিষ্ণুবাবু এখানে ‘আর্টের জন্যই আর্ট’-এর পক্ষেই একটু ঘুরিয়ে ওকালতি করেছেন। মার্কসবাদের মূলকথা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, লেখকের শ্রেণীগত চেতনার হিসাব না ধরেও লেখার বিচার চলে, লেখক কোন শ্রেণীর দৃষ্টিতে চাষীশ্রেণীর জীবনকে দেখছেন, গল্পের সমালোচনায় তার খোঁজ করা গোয়েন্দাগিরির সামিল!

১০৮