লে খ কে র ক থা
আমরা ভদ্রলোকেরা বলি: আহা, গরীবের বৌ অভাবের তাড়নায় দেহ বিক্রি করলো! আমাদের ভাবখানা এই, যেন আমাদের আহা বলবার জন্যই সে এ কাজটা করেছে, অন্যথা কোন প্রয়োজনই ছিল না।
এই জন্যই লেখা থেকে লেখককে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। বিষ্ণুবাবু যদি এই অমার্ক্সীয় দৃষ্টি বর্জন করতেন, তাহলে দেখতে পেতেন, অচিন্ত্যকুমারের যে বিশেষ পরিণতির কথা বলছেন তার বিশেষত্ব, নতুন দৃষ্টি, নতুন চেতনা, নতুন জীবনবোধ বা মানসজগতের সমাজমানসগত মৌলিক কোন পরিবর্তন নয়—পরিণতি শুধু এই যে, তিনি নতুন বিষয়কে উপাদান করে আরও পাকা হাতে লিখছেন। তাঁর আগের স্টাইল আরও দৃঢ়বদ্ধ হয়েছে, তাঁর আগের দৃষ্টি আরও ব্যাপক, জীবনক্ষেত্রকে আরও পরিষ্কারভাবে দেখছে, অভিজ্ঞতার সাহিত্যিক রূপায়ণ আরও ঘন ও শৃংখলাবদ্ধ হয়েছে। তাঁর চিন্তাজগতে বিপ্লবাত্মক কোনও মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি। মধ্যবিত্তের জীবন একদিন ছিল তাঁর সাহিত্যের অবলম্বন। তারপর চাকরি জীবনে চাষীর জীবন, বিশেষ করে পূর্ববঙ্গের মুসলমান চাষীর জীবন, একভাবে তাঁর সামনে এল, একদিকের উলঙ্গ বাস্তবরূপে। ত্রিশংকু শ্রেণীর স্বপ্ন ও বাস্তবে একাকার অর্থহীনতা, ভ্রান্তি, বিরোধ ও ব্যর্থতা, এক কথায় সীমানার মধ্যেই আবদ্ধ মধ্যবিত্ত জীবনের আত্মবিচারগত বাস্তবতা যেভাবে তাঁর সাহিত্যে এসেছিল, তেমনিভাবেই এল চাষীর জীবনের
১১২