বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লেখকের কথা - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

লে খ কে র ক থা

শ্রীহীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীসুভাষ মুখোপাধ্যায় আজ বহুদিন বিনা বিচারে আটক হয়ে আছেন। সংঘের কেন্দ্রীয় আপিসে একাধিকবার পুলিসের পদার্পণ ঘটেছে, কয়েকটি শাখায় সার্চ করে উৎসাহী কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠান গণনাট্য সংঘ এবং সোভিয়েট সুহৃদ সংঘও পুলিসের কৃপালাভ থেকে বঞ্চিত হয়নি।

 এই আক্রমণের প্রতিরোধে সংঘের উদ্যোগে ‘সংস্কৃতি স্বাধীনতা পরিষদ’ স্থাপিত হয়। বুদ্ধিজীবীদের সামনে সংস্কৃতির এই নতুন সংকটের স্বরূপ তুলে ধরা ও জোরালো প্রতিবাদ সৃষ্টি করার কাজে ‘সংস্কৃতি স্বাধীনতা পরিষদে’র ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

 যুদ্ধাবসানের পর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অবস্থার দ্রুত রূপান্তর হয়েছে। আজ সোভিয়েটের বিরুদ্ধে আমেরিকার নেতৃত্বাধীনে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি সংঘবদ্ধ হয়ে নূতন বিশ্বযুদ্ধের প্রকাশ্য প্রচারের রূপ নিয়েছে। এই সোভিয়েট বিরোধিতা রাজনীতির ক্ষেত্র অতিক্রম করে সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও ফ্যাসিস্ট দমননীতিতে পরিণত হতে আরম্ভ করেছে। তাই, যেটুকু মোহ ও জড়তা অবশিষ্ট ছিল আজ তা ঝেড়ে ফেলবার জরুরী প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

 সন্দেহ নেই আমরা তা পারবো। প্রগতির অভিযান সকল বাধা ঠেলে সরিয়ে এগিয়ে যাবে।

 বাংলায় ভারতীয় প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের একটি হিন্দী ও একটি উর্দু শাখা আছে। এই শাখা ছুটির সঙ্গে

১২৬