লে খ কে র ক থা
জোরের সঙ্গে দাবি করা হয়েছিল যে, আমরা বস্তুপন্থী সাহিত্য সৃষ্টি করছি, কিন্তু প্রকৃত বস্তুবাদী আদর্শ কল্লোল, কালি-কলমীয় সাহিত্যিক অভিযানের পিছনে ছিল না।
সচেতনভাবে বস্তুবাদের আদর্শ অবলম্বন করে নয়, বাস্তবতাই মধ্যবিত্তের জীবনে ও চেতনায় ভাববাদ ও বস্তুবাদের যে সংঘাত সৃষ্টি করেছিল, যে সংঘাত আমার জীবনে ও চেতনায় প্রকট হয়েছিল, সাহিত্যে তারই স্বতঃস্ফুর্ত অভিব্যক্তি হিসাবে দেখা দিয়েছিল এই বিদ্রোহ। ১৩৩৩ সালের ‘কালি কলমে’ সাহিত্যের নতুন অভিযানের স্বপক্ষে প্রেমেন্দ্র মিত্রের একটি চিঠি ছাপা হয়। তিনি লিখছেন “জীবনকে দেখবার পাঠ নিতে যদি হ্যামসুন গোর্কির পাঠশালায় গিয়ে থাকি তাতে দোষ কি·····গোর্কিহ্যামসুনের জগতে এলে ইউক্লিডেরা ফাঁপরে পড়ে! এ যে একেবারে মগের মুলুক! এ যে জীবনের জটিল দুর্বোধ্য জগৎ!”
চিঠিখানায় আরও কয়েকবার ‘হ্যামসুন-গোর্কি’র নামোল্লেখ আছে। প্রেমেনবাবুর ছোট একখানা চিঠিতে সাহিত্যে নতুন বিদ্রোহের স্বরূপ যেন ধরা দিয়েছে, বেশি দূর হাতড়াতে হয় না। বাংলা সাহিত্যে জীবন নেই, সব কিছুই গণিতের নিয়মে ছকে বাঁধা প্রাণহীন ব্যাপার। হ্যামসুনগোর্কির মগের মুলুকে পরিণত করতে হবে বাংলা সাহিত্যকে!
হ্যামসুনের দু’-একখানা বই পড়েছিলাম। প্রেমেনবাবুর এই চিঠি পড়ে গোর্কির সঙ্গে প্রথম পরিচয় করতে যাই।
২৮