লে খ কে র ক থা
নিজের জীবন দর্শনের সত্যটিকে রূপায়িত করার স্বাধীনতা সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়। কতটা সময় দিয়ে কতটা লিখলে পেট চলবে শুধু এই হিসাব নয়, যারা তাকে পেট চালাবার টাকা দেবে তারা তার বক্তব্য কিভাবে নেবে এই ভাবনাও ভাবতে হয়।
বাস্তবতাটা একটু খোলসা করি।
যে সমাজে যে অর্থ নৈতিক ব্যবস্থা, সাহিত্যিক তার আওতার বাইরে যেতে পারেন না,—এই নির্ভুল যুক্তি থেকে নির্ভুল সিদ্ধান্ত আসে যে মালিকানা স্বার্থের সমাজে সাহিত্যিক মজুরি নিয়েই শ্রম বিক্রয় করেন।
সাহিত্যকে পেশা করা না করার প্রশ্নে এই সঠিক সিদ্ধাস্ত যান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেকে কিন্তু বেঠিক সিদ্ধান্তে গিয়ে পৌঁছান। সাহিত্যকে পেশা করা কেন উচিত নয় তার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করান: সাহিত্যিক মালিকশ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার উপযোগী সাহিত্য রচনা না করলে মালিকশ্রেণী তাকে বাঁচার মতো মজুরি দেবে না। কাজেই, সাহিত্য করে বাঁচতে চাইলে মালিকশ্রেণীর স্বার্থের পক্ষে প্রচার করতেই হবে।
কি অপরূপ ছেলেমানুষী যুক্তি! মালিকের মুনাফার জন্য খাটলে, মজুর কেরানী খেটে যাওয়ার জন্য কোন মতে বেঁচে থাকার মতো মজুরি পান বলেই মজুর কেরানীরা যেন মালিকদের মুনাফার দায় ঘাড়ে নিয়ে মালিকশ্রেণীর পক্ষ নিয়ে খাটেন!
৩৪