লে খ কে র স ম স্যা
বেঁচে থাকার মতো মজুরি নিয়ে খাটলেই যেন তাই সাহিত্যিককে মালিকশ্রেণীর পক্ষ নিতে হবে!
কোনও দেশে কোনও কালে মজুর মালিকের স্বার্থে খাটেনি।
মজুর কেরানীর মতো কোন মতে বাঁচার মতো মজুরি নিয়ে খেটে পেশাদার সাহিত্যিক হলে তার খাটুনিটা কেন মালিকশ্রেণীর স্বার্থের পক্ষে প্রচার হতেই হবে?
এই কারণে সাহিত্যিকের কেন পেশাদার হওয়া চলবে না? মজুর কেরানীর মতোই তো তিনি শুধু তার শ্রমটুকু বিক্রি করবেন, পক্ষপাতিত্ব নয়।
মজুর বেচেন কায়িক শ্রম। কেরানীও প্রায় তাই। দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই মাথার কাজ বারবার করে যেতে যেতে সেটা আর মাথার কাজ থাকে না, মজুরের কায়িক শ্রমে দেহ ক্ষয় করার ঠিক বিপরীত প্রক্রিয়ায় মর্চে ধরে দেহ ক্ষয় করার কায়িক পরিশ্রমে দাঁড়িয়ে যায়।
কায়িক শ্রম আর মানসিক শ্রমের মধ্যে কৃত্রিম গুণগত ও মূলগত তারতম্য দু’ রকম শ্রমের মজুরিদাতারাই সৃষ্টি করেছে। কিন্তু মজুরিদাতাদের কেরামতি হলেও ইতিহাসের সুনিয়মিত ধারার অঙ্গ হিসাবেই অনিয়মও সাময়িক বাস্তবতার মর্যাদা পায়। সমসাময়িক অবস্থার সুযোগ নিয়ে জুয়াড়ীর মরি-বাঁচি প্রাণান্তকর চেষ্টায় একটা যুদ্ধ বাধিয়ে মুনাফা বেলুনের মতো ফাঁপিয়ে তোলাও যেমন একটা সর্বগ্রাসী সাময়িক বাস্তবতা হয়ে ওঠে।
৩৫