বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লেখকের কথা - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

প্র তি ভা

যে, ছবি আঁকতে পারা আর কবিতা লিখতে পারা দু’রকমের গুণ। লেখক-কবিরা এটুকু মানতেও রাজী নন। ছবি আঁকা যদি গুণ হয়, তবে কবিতা গল্প-লেখা গুণই নয়, দুর্লভ দুর্বোধ্য একটা কিছু! কেন, মানুষ কি যুগ যুগ ধরে মেনে আসছে না সাধারণ কোন সংজ্ঞাই তাঁদের প্রতি প্রযোজ্য হতে পারে না?

 তাঁরা ঠিক মানুষ নন, তাঁদের প্রতিভার মানে নেই। অথচ, কথাটা যে কি সাংঘাতিক তলিয়ে বুঝতে গেলে গা শিউরে উঠবে!

 যুগ যুগ ধরে মানুষের রহস্যময় অন্তর্লোকের সন্ধান জানিয়ে জানিয়ে, সাধারণ বুদ্ধিতে অগম্য অনাগত ভবিষ্যৎকে অনুভূতির সঙ্কেতে প্রকাশ করে করে, হৃদয়ে হৃদয়ে আনন্দ বেদনার হিল্লোল জাগিয়ে জাগিয়ে এবং নিজেকে সযত্নে লোকচক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে রেখে ও মাঝে মাঝে শুধু অসাধারণ অলোকসামান্য কথাবার্তা চালচলন ব্যবহারের মধ্যে খানিক খানিক আত্মপ্রকাশ করে জনতার মধ্যে নিজেদের সম্পর্কে যে মিথ্যা মোহ, ভ্রান্তধারণা বহুকাল ধরে লেখক-কবিরা সৃষ্টি করে এসেছেন, আজ বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার যুগে সেই জালে আটক পড়ে তাঁদের বিপদের সীমা নেই। কাব্য সাহিত্যের আসরে পর্যন্ত বিজ্ঞান এসে জুড়ে বসছে, ঠুনকো রঙীন কাঁচের মতো ভেঙে পড়ছে ঈশ্বরের দুর্গের দেয়াল থেকে কাব্যলক্ষ্মীর অন্দরমহলের দেয়াল, জীবন থেকে ঝেঁটিয়ে সাফ করা হচ্ছে ভ্রান্তির জঞ্জাল, বৈজ্ঞানিক

৪৭