বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লেখকের কথা - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

লে খ কে র ক থা

দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া আজ আর কলম ধরার উপায় নেই। কিন্তু পুরুত-মোল্লা-পাদরীদের মতো লেখক-কবিদের হয়েছে বিষম বিপদ। যুগ যুগ ধরে সযত্নে সৃষ্টি করা জনতার যে সংস্কার ভিত্তি করে এতকাল তাঁরা দাঁড়িয়ে ছিলেন, আজ নিজের হাতে কেমন করে সে ভিত্তি ভেঙে দেবেন, দাড়াবেন কোথায়! ভিত্তি কিন্তু ভেঙে যাচ্ছে, কে ঠেকাবে? নতুন ভিত্তিও তৈরি হচ্ছে। জনতার যে সংস্কারের প্রতিক্রিয়া ছিল, লেখক-কবিরও পুরনো সংস্কার, একটাতে ভাঙন ধরার সঙ্গে স্বভাবতঃই অন্যটাতেও ভাঙন ধরে। কিন্তু সমস্যা এখনো মেটেনি—এখনই বরং সমস্যাটার সবচেয়ে উৎকট অবস্থা। জনতার পুরনো ধারণা ভাঙতে শুরু করায় গোড়ার দিকে বরং লেখক-কবির পক্ষে সম্ভব ছিল নিজের ধারণা না বদলিয়েও পুরনো কায়দাতেই জনতাকে খুশি রাখা—গণ-বিক্ষোভের গোড়ার দিকে যেমন রাজা মহারাজা মালিকের পক্ষেও দেশভক্ত সেজে জনসভায় বক্তৃতা দিয়ে জনতাকে খুশি করা সম্ভব। আজ আর সে অবস্থা নেই। আজ লেখক-কবিকে নিজের সম্পর্কে নিজেরই পুরনো ধারণা ও বিশ্বাস ছেঁটে ফেলতেই হবে, নতুবা তাঁর ব্যবসা চলে না।

 মনের জগতে জনসাধারণকে মোহগ্রস্ত প্রজা করে রেখে পরম মাননীয় রাজা সেজে রাজত্ব করা আজ অসম্ভব হয়ে গিয়েছে। রাজসিংহাসন ত্যাগ করে রাজার মনোভাব নিয়ে নেতা হবার পর্যন্ত উপায় নেই।

৪৮