লে খ কে র ক থা
আঁতুড়ে রবীন্দ্রনাথকে দেখে কারো পক্ষে বলে দেওয়াই অসম্ভব ছিল যে, এককালে তিনি প্রতিভাবান কবি হবেন; শুধু তাই নয়, কবিই যে তিনি হবেন এমন কোন সুনির্দিষ্ট সম্ভাবনাই ছিল না। আইনস্টাইন হতে পারতেন, জওহরলাল হতে পারতেন—আবার কিছু নাও হতে পারতেন! কবিতা লেখায় দক্ষতা অর্জনের পথে তাঁর প্রতিভার বিকাশ হয়েছে পরে, তাঁরই জীবনযাপনের সর্বাঙ্গীন প্রক্রিয়ার মধ্যে।
আসল কথাটা এই: দুটি জিনিস নিয়ে প্রতিভা—দেহের উপকরণাদির উৎকর্ষ এবং আঁতুড় থেকে (হয়তো ভ্রূণের অবস্থা থেকেই—ভ্রূণের ওপর মায়ের মারফতে বাইরের প্রভাব কতটা হয় এখনো বেশি জানা যায়নি) প্রতিটি মুহূর্তের প্রভাব—ঘরের বাইরের কাজের অকাজের প্রত্যেক মুহূর্ত। সব মিলিয়ে এই প্রভাব কিভাবে একদিকে হৃদয় মনের বিশেষ গড়ন দেয় আর অন্যদিকে হৃদয়-মনের চলতি ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, আজকের অসম্পূর্ণ মনোবিজ্ঞান তার যতগুলি নিয়মকানুন আবিষ্কার করেছে প্রতিভার স্বরূপ জানার পক্ষে আজ তাই যথেষ্ট। শিশুকাল থেকে দুরন্ত অবাধ্য অমনোযোগী ছেলে হঠাৎ বদলে গিয়ে যখন অসাধারণ প্রতিভাবান বৈজ্ঞানিকে পরিণত হয় তখন স্বভাবতঃই আমাদের বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয়—বৈজ্ঞানিকের প্রতিভা ছেলেটির মধ্যে ‘লুকিয়ে’ ছিল, যেদিন থেকে সে ভালো ছেলে হয়েছিল সেদিন থেকে ওই প্রতিভার বিকাশ শুরু হয়।
৫০