বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লেখকের কথা - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

প্র তি ভা

একাকার হয়ে যাবার দিন এসেছে। জনতার তাই দাবি। লেবরেটরিতে পরমাণুর শক্তিকে মুক্তি দিতে পারার মধ্যেই বৈজ্ঞানিককে তার কর্তব্য শেষ করতে দিতে মানুষ আর রাজী নয়। মানুষ আজ দাবি করতে শুরু করেছে, আণবিক বোমা নয়, তোমার ওই পরমাণুর শক্তি আমার কি কাজে লাগে বাতৎলিয়ে দাও। বৈজ্ঞানিক টের পাচ্ছেন, দাবি হুকুম হয়ে উঠলো বলে,—সে হুকুম অমান্য করা চলবে না। নিছক বৈজ্ঞানিক হয়ে থাকা আর চলবে না বেশি দিন, লেখক-কবির মতো মানুষকে ভালোবাসতে শিখতে হবে, গবেষণার খাতিরে গবেষণা চালাতে হবে। আর লেখক-কবিও টের পাচ্ছেন যে, নিছক হাসি-কান্নার আরক আর ভূমার মূলধনে প্রেম চলবে না মানুষের সঙ্গে, বৈজ্ঞানিকের মতো মানুষের রোগ উপবাস লড়াই নিয়ে গবেষণা করা ছাড়া উপায় নেই।

 সেজন্য নিজেকে সাধারণ মানুষ ভাবা ছাড়াও আমার পথ নেই। জনসাধারণ সাধারণ আর আমি অসাধারণ, কারণ আমি লেখক, এ ধারণা নিয়ে ভালোবাসতে গেলে মানুষ কাছে ঘেঁষতে দেবে না, মানবপ্রেমে বুক ফেটে যাওয়া বেদনার সৃষ্টিও গ্রহণ করবে না। তাই সাহিত্যে প্রগতি আনার খাতিরে, গণসাহিত্য সৃষ্টির জন্য প্রাণের ছটফটানি মেটানোর জন্য অগত্যাই আজ সবার আগে লেখক-কবিকে এই চিন্তাটা স্বভাবে পরিণত করতে হবে—আমি দশ জনের একজন।

 তাতে দোষের কিছু নেই। প্রতিভাও তো জনসাধারণের

৫৩