বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লেখকের কথা - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

উ প ন্যা সে র ধা রা

একটি বিভাগ খুলতে হলো: অধ্যাত্মবাদের জের এবং ভাববাদ আত্মরক্ষার খাতিরে যুক্তিবাদের সাহায্যে বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে শুরু করলো উপন্যাসের ধারা।

 যুক্তিবাদ খাঁটি দর্শনে বিশেষ খাতির পায়নি—ইতিহাস দর্শনকে যে মূল ভাগে ভাগ করেছে (অধ্যাত্মবাদ, ভাববাদ ও বস্তুবাদ) তারই নানারকম আলতো বাদ হিসাবে অনেক শাখাপ্রশাখা গজিয়েছে, যুক্তিবাদ তারই একটা।

 যুক্তিবাদ কারণ দেখায় না, যুক্তি দেয়।‘এরকম হওয়া উচিত’ এটাও যুক্তিবাদের যুক্তি।

 দর্শন ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যুক্তিবাদের অবদান খুবই সামান্য, সাহিত্যে উপন্যাসের নব-বিধান যেন যুক্তিবাদেরই জয়গান—আপাতদৃষ্টিতে তাই মনে হয়। আসলে সেটা বস্তুবাদেরই অগ্রগতি। অধ্যাত্মবাদ, ভাববাদ এবং বস্তুবাদ কোনটাই সমসাময়িক সুবিধাবাদের নীতি মানেনি। মানবতার বিকাশের মূলনীতি ক্ষয়বৃদ্ধি এগোনো পিছানোর বাস্তব কার্যকরী নীতিকেই মেনে এসেছে।

 বাদ নিয়ে বাদানুবাদের প্রবন্ধ লিখতে চাইনি। এটুকু ভূমিকা মাত্র। আমার অভিজ্ঞতায় এটুকু যাচাই হয়ে গিয়েছে গোড়াতেই। খুব সহজ করে বলতে গেলে বলা যায় যে, লেখক যে ভাব আর ভাবনাই সাজিয়ে দিন উপন্যাসে, ভিত্‌টা তাঁকে গাঁথতেই হবে খাঁটি বাস্তবতার। যতই খাপছাড়া উদ্ভট হোক উপন্যাসেরই চরিত্র, মাটির পৃথিবীর মানুষ হয়ে তাকে খাপছাড়া উদ্ভট হতে হবে।

৬১