বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লেখকের কথা - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৯২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

লে খ কে র ক থা

সাহিত্যের স্বরূপ এবং লেখকদের সমস্যা যেমন নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন তেমনি সুন্দর ও সঠিকভাবে এই সমস্যার সমাধানও বাৎলিয়েছেন: আরও বেশি করে জীবনকে জানা, আরও একান্তভাবে নিবিড়ভাবে জীবনের সান্নিধ্যে যাওয়া ও তার গতি-প্রকৃতির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য উপলব্ধি করা। আঙ্গিকের জন্যও তিনি পূর্বসুরীদের সাহিত্য পড়তে বসে সঠিকভাবেই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সে আঙ্গিকে আজকের লেখকের কাজ হবে না।

 অচ্যুতবাবু লিখেছেন, “আসল কথা হলো, প্রগতিশীল লেখকদের আজকে এমন একটা সমস্যার সামনে পড়তে হয়েছে যা কোন কালের কোন লেখকের উপলব্ধি করতে হয়নি। লেখকেরা চিরদিনই তথ্যের থেকে তত্ত্বের দিকে যান; আজকের লেখকদের পরিক্রমণের পথ হলো তত্ত্বের থেকে তথ্যের দিকে। ফলে তথ্যের মধ্যে তত্ত্বকে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সীমায় আবিষ্কার করতে না পারার জন্যে লেখকেরা একবার স্থূলভাবে প্রচারধর্মী হয়ে পড়ছেন, আর একবার সূক্ষ্মভাবে আঙ্গিক-সর্বস্ব হয়ে পড়ছেন। এর একমাত্র সমাধান হলো আরও বেশি করে জীবনকে জানা, আরও একান্তভাবে নিবিড়ভাবে জীবনের সান্নিধ্যে যাওয়া ও তার গতিপ্রকৃতির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য উপলব্ধি করা। আঙ্গিকের জন্য পূর্বসূরীদের সাহিত্য পড়তে হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে সে-আঙ্গিকে লেখকের কাজ হবে না। আর একটি কথা, শ্রমিক-কৃষকের জীবনের পটভূমিকা না

৮৮