শঙ্কর দেব কুসুমগিরি পরম শিবভক্ত ছিলেন। পুত্র কামনায় তিনি বহুকাল নিষ্ঠা সহকারে বিবিধ বিধানে শিবলিঙ্গের অর্চ্চনা করেন। দৈত্যারিঠাকুর বলেন, শঙ্করের বরে পুত্রলাভ করিয়া, কুসুমগিরি পুত্রের শঙ্কর বা গদাধর এই নামকরণ করেন। কিন্তু কণ্ঠভূষণ ( ৯ ) লিখিয়াছেন, কুসুমগিরির ঐকান্তিক ভক্তিতে পরিতুষ্ট হইয়া স্বয়ং শঙ্কর শঙ্কররূপে তাঁহার গৃহে অবতীর্ণ হন ( ১০ ) । একদা রজনীতে কুসুমপত্নী এক অদ্ভুত স্বপ্ন দর্শন করেন, 2 জটাজুট শিরে শোভে অর্দ্ধচন্দ্ৰকলা । গলত শোভয় মনুষ্যর মুণ্ডমালা ৷ কটীত বাঘর ছাল সর্প অলঙ্কার। ভস্মে বিভূষিত অঙ্গ দেখি চমৎকার ৷ মহাভয় হুয়া সতী চাহিয়া আছন্ত । দিয়া তবুগৃহে স্থান মহেশে মাগন্ত ॥―কণ্ঠভূষণ, ২ পৃঃ অচিরে সতীর স্বপ্ন সফল হইল—গর্ভের লক্ষণসমূহ প্রকাশিত হইল। কুসুম- গিরির আনন্দের সীমা রহিল না। তিনি সন্তান-লাভের আশায় নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান করিতে লাগিলেন । কাল পূর্ণ হইলে শুভ দিন, শুভ ক্ষণ ও শুভ নক্ষত্রের সম্মিলন হইল। কুসুমগিরির পত্নী পুত্ররত্ন প্রবস করিলেন। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ামাত্র মেঘসকল মৃদু গর্জ্জন করিল । অশ্বগণ উচ্চৈঃস্বরে হেয়ারব করিল। মরি মরি, শিশুর কি সুন্দর জ্যোতিৰ্ম্ময় রূপ ! তমোময় অৰ্দ্ধনিশীথে সুতিকা-গৃহটি শিশুর দেহনিঃসৃত প্রখর জ্যোতিতে আলোকিত হইয়া রহিয়াছে । পুত্র ভূমিষ্ঠ হইয়াছে শুনিয়া কুসুমগিরি সর্ব্বাগ্রে স্নান করিলেন ; পুত্রের কল্যাণোদ্দেশে বহু দান-দক্ষিণাদি স্বকুলোচিত কার্য্যের অনুষ্ঠান করিলেন ; ব্রাহ্মণ, দৈবজ্ঞ ও জ্ঞাতিগণকে আহ্বান করিলেন । দৈবজ্ঞেরা গণনা করিয়া কহিলেন, (১) কণ্ঠভূষণ শঙ্করদেবের চরিত্রলেখক। ইঁহার পিতামহ দ্বিজ চক্রপাণি শঙ্করদেবের প্রভাবকালে সশিষ্য বৈষ্ণবধর্ম্ম গ্রহণ করেন। তৎপুত্র বৈকুণ্ঠ, তৎপুত্র দ্বিজভূষণ । ইনি প্রহ্লাদোপম কৃষ্ণভক্ত নারায়ণদাসের পুরোহিতবংশীয় ছিলেন এবং তাঁহারই মুখে শঙ্কর-চরিত-কথা জ্ঞাত হইয়াছিলেন । গ্রন্থ রচনাকালে শঙ্করদেবের পৌত্র চতুর্ভুজ বিষ্ণুপুর সত্রে বর্ত্তমান ছিলেন। এখন ইঁহার বংশে কেহ আছেন কি না, জানা যায় না। ইঁহার সাচিপাতে লিখিত যে পুরধি আমরা দেখিয়াছি, তাহা ৩•• শত বৎসরেরও অধিক প্রাচীন বলিয়। বোধ হয় । ( ১০ ) মাধবদেব স্বরচিত গুরুভটিমতে লিথিয়াছেন, “জগজনতারণ দেয়নারায়ণ শঙ্কর তাকেরি অংশ। * বৈষ্ণব কীর্তন ।
পাতা:শঙ্করদেব - উমেশচন্দ্র দেব (১৯২০).pdf/১১
অবয়ব