শঙ্করদেব বালরোজলে নামিয়া যখন সাঁতারিয়া খেলা করিত, তখন কোন বালকই শঙ্করের ন্যায় অধিক ক্ষণ জলে ডুব দিয়া থাকিতে পারিত না। দৌড়াদৌড়ি আরও হইলে কেহই শঙ্করের অগ্রে যাইতে পারিত না । বটা চরাই ( পক্ষি-বিশেষ ) ধরিতে গেলে অন্য বালকেরা একটিও খুঁজিয়া পাইত না । শঙ্করের হাতে দুই চারিটি ধরা পড়িত । কিন্তু এই ক্রীড়াশীল বালক পার্থী ধরিয়া আনিয়া তাহাদের প্রতি নিদর 'ব্যবহার করিত না। খেলা শেষে সমস্ত পাখী উড়াইয়া যথাস্থানে রাখিয়া আসিত কুকুর-শাবক ধরিয়া আনিয়া বাসা দিয়া রাখিত। পাছে শীতে কষ্ট পায়, এই জন্য শাবকগুলিকে কাপড় দিয়া ঢাকিয়া দিত ৷ বিদ্যাশিক্ষায় পুত্রের অযত্ন দেখিয়া কুসুমগিরি অপ্রসন্ন ও চিন্তিত হইলেন। বিদ্যাশিক্ষায় পুত্রকে উৎসাহিত করিবার জন্য এক দিবস অনেক বুঝাইলেন। বলিলেন, “বাছা ! তোমাকে পুত্ররূপে পাইয়া বড়ই সুখী হইয়াছিলাম। ব্রাহ্মণ ও দৈবজ্ঞেরা গণনা করিয়া বলিয়াছিলেন যে, তুমি পরম পণ্ডিত হইবে; কিন্তু এ পর্যন্ত তাহার কোনই লক্ষণ দেখিতেছি না। আমার বংশে পূর্ব্বপিতৃপিতামহগণ সকলেই বিশিষ্ট পণ্ডিত ছিলেন এবং বিচারে সর্বত্র জয়লাভ করিয়া গিয়াছেন। আমার বোধ হইতেছে, সেই মহদ্বংশের মধ্যে তুমিই মহামূর্খ হইবে।” কথাগুলি শঙ্করের মর্মস্পর্শ করিল ৷ চঞ্চলমতি বালক তৎক্ষণাৎ গম্ভীর ভাব ধারণ করিয়া বলিল, “আমায় পাঠশালায় যাইতে দিন, আমি পড়িতে পারি কি না, দেখিতে পাইবেন।” এই অপ্রত্যাশিত . উত্তর পাইয়া কুসুমগিরি পুত্রকে ক্রোড়ে হইয়া তাহার নুখ চুম্বন করিলেন এবং কহিলেন :—
ধন্য ধন্য বাপু তুমি কুলর নন্দন । পড়িবাক শুনি মোর তুষ্ট ভৈলা মন ৷৷ রূপ যৌবন যদি কুলবন্ত হয় । বিদ্যাহীন ভৈলে বাপু কিছু ন শোভয় ৷ আন ধন ধান্যর ভ্রাতৃয়ে বণ্টা লয় ৷ . বিদ্যাধন মহারত্ন নিবে না পারয় ৷ দানে ক্ষয় ন যাইবে চোরে না পারে নিবাক । স্বদেশত পূজে মাত্র মহন্ত রজাক ৷ বিদ্যাবন্ত পুরুষক পূজে সৰ্ব্ব ঠাই ! বিদ্যা যে ভূষণ বাপু অধিকে সহাই ॥ 'কুসুমগিরির অভীষ্ট সিদ্ধ হইল। তীক্ষ্ণধী বালক শঙ্করের প্রতিভা স্রোতো-গতি